ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
গ্রামে অন্ধকারে গণভোট!
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৩ পিএম আপডেট: ০৪.০২.২০২৬ ৩:৩২ পিএম
ফাইল ছবি
X

ফাইল ছবি

আর মাত্র ১১ দিন পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলো এখন প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত। নিজ দলের পক্ষে ভোট চাইতে তারা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। আয়োজিত হচ্ছে বিশালাকার মিছিল সমাবেশ। 

কিন্তু একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোট সম্পর্কে তৃণমূলের ভোটাররা এখনো রয়ে গেছেন অস্পষ্টতায়। সচেতন ভোটাররা এ বিষয়ে কম-বেশি সচেতন হলেও গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত ভোটারদের অনেকেই রয়ে গেছেন অন্ধকারে।

ভোলা জেলার সর্বশেষ উপজেলা চরফ্যাশন। এখানে ভোটার সংখ্যা পাঁচ লক্ষ দুই হাজার ২৬ জন। এর
মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লক্ষ ৬২ হাজার ৮৪৩ জন, নারী ভোটার দুই লক্ষ ৩৯ হাজার ১৭৬ জন। নিবাচনে এবার এই উপজেলায় সাত জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ভোট দেবে।

উপজেলার ২১ ইউনিয়নের মধ্যে বেশ কিছু ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লায় ভোট নিয়ে আলোচনা থাকলেও গণভোটের বিষয়ে আলোচনা তেমন নেই। গণভোটে নিম্নআয়ের মানুষের আগ্রহ কম। 

স্থানীয়রা বলছেন, জামায়েতের নারী কর্মীরা এসে জাতীয় ভোটের পাশাপাশি গণভোট সম্পর্কে যেটুকু বলছেন ততটুকুই জানতে পারছেন তারা।

উপজেলার হাজারিগঞ্জ ইউনিয়নের মাহামুদিয়ার মোর এলাকায় দেখা হয় রিকশাচালক আকবর মালের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমি লেখাপড়া জানি না। টিপ-সই দিয়ে চলছি। এবার শুনছি ভোটে প্রশ্ন থাকবে, পড়ে ভোট দিতে হবে। এটা তো আমার পক্ষে সম্ভব না।’

তিনি বলেন, ‘স্ত্রীকে নিয়ে বাধের পাড়ে ঘর তুলে থাকি। ওখানে চায়ের দোকানে বসলে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলে। অনেকবার ভোট দিয়েছি প্রতীক দেখে। এবার কেমন ভোট হবে যে পড়তে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মহিলারা বাসায় এসে বলে গেছেন, কোনো কিছু পড়তে হবে না। দাঁড়িপাল্লা মার্কা ও হ্যাঁ মার্কায় সিল দিলেই হবে। তাহলে গরিব মানুষ ভালো থাকবে। নির্বাচনের আগে সবাই এই কথাই বলে। তারপর আর কেউ খোঁজ নেয় না।’

সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ থাকলেও গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে জানানো হলেও বাস্তবে জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম ও চরাঞ্চলগুলোতে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম নেই বললেই
চলে। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।

জিন্নগড় ইউনিয়নের মজুমদার চৌমহনির নারী ভোটার আরজু বিবি বলেন, ‘হ্যাঁ-না ভোটের কথা আমি কিছুই বুঝি না। আমি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় প্রতীকে ভোট দিয়ে আসছি। প্রতীক ছাড়া ভোট দেওয়া আমার জন্য কঠিন।’

ওই এলাকার ব্যবসায়ী রনজিৎ বাবু বলেন, ‘যাকে ভালো লাগবে তাকেই ভোট দেব।’ 

চরমাদ্রজ ইউনিয়নের আনজুর বাজারের স্বপন দাস বলেন, ‘হ্যাঁ-না ভোট সম্পর্কে কিছুই জানি না।’

এই প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. লোকমান হোসেন বলেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউপি ও সভা-সমাবেশের মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এখনো নিবাচনের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পোস্টার বা মাইকিং, ভোটের গাড়িসহ উঠান বৈঠক, সরাসরি আলোচনা এবং সরকারি ও বেসরকারি টিভিতে বেশি বেশি বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যমে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের অর্থ ও সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাখ্যা করে বিভ্রান্তি কাটনো হচ্ছে।’

এসএফ/এমএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝