চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ ও শাহরাস্তি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন প্রধানীয়া সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁর নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম শুরু করেছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে শাহরাস্তি ও বিকেলে হাজীগঞ্জে পৃথক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি ফুটবল প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন।
হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি খালেকুজ্জামান শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জাকির হোসেন প্রধানীয়া বলেন, এ দেশে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। কারণ বর্তমান বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মচারীদের পরিবার পরিচালনা ও সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তাই দুর্নীতি কমাতে হলে আগে যুগোপযোগী বেতন কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।
তিনি বলেন, একদল রাজনৈতিক দল কার্ড দেওয়ার কথা বললেও তা ব্যক্তিগত অর্থে নাকি জনগণের (সরকারি) টাকায়—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলে না। এটি মূলত কার্ডের নামে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। আবার আরেকদল জান্নাতের বিনিময়ে ভোট চায়। প্রশ্ন হলো, শরিয়তের হুকুম-আহকাম নিজেরা না মানলে তারা কিভাবে মানুষকে জান্নাতে নেবে?
নির্বাচনে অংশগ্রহণের কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলই কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পেরিয়ে গেলেও মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। ঘোষিত কর্মসংস্থানের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নও হয়নি। তাই আগে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
জাকির হোসেন প্রধানীয়া বলেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি সাতটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবেন। এসব হলো—উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যের কার্যালয় স্থাপন, সততা ও নৈতিকতা প্রতিষ্ঠা, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং কৃষক ও শ্রমিকদের উন্নয়ন। এসব বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মজুমদারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক মনজুর আলম পাটওয়ারী এবং গীতা থেকে পাঠ করেন সুজন দাস। পরে বক্তব্য রাখেন শাহরাস্তির মো. নুরুজ্জামান প্রিন্স ও হাজীগঞ্জের আওলাদ হোসেন প্রধানীয়া। এ সময় প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় জাকির হোসেন প্রধানীয়া তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পান। এর আগে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংক্রান্ত গরমিলের অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। পরে আদালতের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে তিনি প্রতীক গ্রহণ করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন।
এমএইচইউ/এসআর