বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও মৌলভীবাজার-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এম নাসের রহমান বলেছেন, বিএনপি আগামীতে গ্রামীণ জনগণের জন্য কী করবে, সে জন্য আমাদের দলের চেয়ারম্যান একটি অভিনব দুটি সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এখন এই পরিকল্পনা দেখে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলওয়ালাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, এর একটি হলো কৃষক কার্ড, আরেকটি হলো ফ্যামেলি কার্ড। কৃষক যাঁরা আছেন, তাঁরা অত্যন্ত সুলভ মূল্যে বীজ, সার, কীটনাশকসহ চাষাবাদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সামগ্রী পাবেন— যাতে একশ টাকার মাল বিশ বা পঁচিশ টাকায় পাওয়া যাবে। বাকি টাকা সরকার ভর্তুকি দেবে। পাশাপাশি কৃষিযন্ত্রপাতি কেনার জন্য সহজ শর্তে ঋণ পাবেন।
এম নাসের রহমান বলেন, আপনার যে ফসল উৎপাদন হবে, তা বিক্রি করে আপনি যেমন এক কেয়ার জমিতে ২০ মন ধান হলে ২০ হাজার টাকা পাবেন। আর ওই ফসল ফলাতে আপনার আরও ৫ হাজার টাকা খরচ হবে। এই মোট ২৫ হাজার টাকার ফসল বীমা কিনতে হবে মাত্র ৪/৫ শ টাকায়। হয়তো আরও কম হতে পারে— এটি আমি উদাহরণ হিসেবে বলছি। কোনো কারণে ঝড়, তুফান, বন্যা, খরা বা রোগে ফসল নষ্ট হলে বীমার বিপরীতে ২৫ হাজার টাকা বীমা কোম্পানি দেবে।
এসব কথা বলে তিনি উপস্থিত জনসাধারণের কাছে জানতে চান, এই কার্ডগুলোর দরকার আছে কি না। তখন সবাই একযোগে ‘দরকার’ বলে জবাব দেন। নাসের রহমান বলেন, এসব পরিকল্পনা দেখে এখন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দল কান্নাকাটি করছে।
তিনি বলেন, ফ্যামেলি কার্ড হবে প্রতিটি পরিবারের নারীর নামে— স্ত্রীর নামে ছবি সংযুক্ত থাকবে। এই পরিকল্পনার নাম ‘স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি’। আড়াই হাজার টাকার ভুষিমাল নির্ধারিত দোকান থেকে প্রতি মাসে বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। কেউ কেউ বলে টাকা দিতে হবে— এটা ভুল কথা। কোনো টাকা দিতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, ভুষিমালের দাম নির্ধারিত থাকবে— চাল, ডাল, তেল, চিনি ও লবণের দাম আগেই ঠিক করা থাকবে। এখানে কম-বেশি করার সুযোগ নেই। চালের দাম যদি ৫০ টাকা হয়, তাহলে ২০ কেজি চাল নেওয়া যাবে, সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল, ডাল ও মসলা নেওয়া যাবে। দরকার নেই— এমন কথা বললে তখন সবাই সমস্বরে বলেন, দরকার।
নাসের রহমান বলেন, এসব নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা নানা অপপ্রচার চালাচ্ছে। এরপর তিনি বলেন, জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনরা মাসিক বেতন পাবেন, দুই ঈদে বোনাস পাবেন এবং সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করবেন। একইভাবে সব ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে।
তিনি আরও বলেন, খালকাটা কর্মসূচি আবার চালু করা হবে। সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল কাটা হবে, যা ফসল উৎপাদনের জন্য কাজে আসবে এবং দেশকে খাদ্যে স্বনির্ভর করে তুলবে।
এম নাসের রহমান বলেন, এ দেশের জনগণ ধানের শীষ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে রয়েছে। জনগণের কল্যাণে যা কিছু প্রয়োজন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সব সময় তা বাস্তবায়নে কাজ করে যাবে।
তিনি বলেন, এসব রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি মা-বোনসহ সবাইকে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দিতে হবে। আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই বাংলাদেশের আগামীর ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। কোনো নারী যেন বাদ না যান— কারণ নারীরা অর্ধেক ভোটার। আর নারীদের নব্বই শতাংশ ভোট ধানের শীষের।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফখরুল ইসলাম, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য মুজিবুর রহমান মজনু, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমেদ, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বদরুল আলমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এসএস/এসআর