পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন জনসাধারণ। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না বসুন্ধরার গ্যাস। অন্যান্য কোম্পানীর গ্যাস কিছুটা পাওয়া গেলেও দাম অনেকটাই চড়া।
১২ কেজি ওজনের এসব গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৬০০ টাকা দরে। এর আগে এসব গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিলো এক হাজার ২০০ টাকা। সিলিন্ডার প্রতি বেড়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা।
গত ১০ দিন ধরে উপকূলীয় এলাকায় বোতলজাত গ্যাসের সংকট চলমান রয়েছে। গ্যাসের বাজারের এমন টালমাটাল অবস্থার জন্য ভোক্তারা বর্তমান সরকার ব্যবস্থাকে দুষছেন। কেননা তারা গ্যাস বিপণন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার হোটেল ব্যবসায়ীরা।
চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকার কারণে বিক্রেতা পর্যায়ে বেশি দামে প্রতিটি গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করার যুক্তি দিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে অনেকটা বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান গ্যাসের ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।
কলাপাড়ার প্রবীণ পেশাজীবী এনামুল হক বলেন, 'বর্তমানে গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে দোকান থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এছাড়া সব সময় চাহিদা মত গ্যাসও মিলছে না। গ্যাস নির্ভর সংসারের রান্নার কাজে গ্যাসের কোনো বিকল্প নেই। তাই এই সংকটকালে গ্যাস না পেলে বাড়িতে রান্না করে খাওয়া বন্ধ থাকে, বিষয়টি চরম ভোগান্তির। অনেক সময় বাধ্য হয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে এক হাজার ৬০০ টাকায় ১২ কেজি বসুন্ধরা গ্যাস কিনেছি। মঙ্গলবার স্থানীয় বাজারে কোথাও বসুন্ধরার গ্যাস খুঁজে পেলাম না। গ্যাসের এমন চলমান সংকট নিরসনে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিৎ।'
হোটেল রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন, 'কিছুদিন আগে যে গ্যাস আমরা এক হাজার ১০০/ এক হাজার ২০০ টাকায় কিনতাম, সেই গ্যাস এখন এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।'
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কাউছার হামিদ বলেন, 'কেউ গ্যাস মজুদ করে সংকট তৈরী করলে এবং অতিরিক্ত মূল্য রাখলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
টিএইচ/এমএ