স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, “সাহস থাকলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে এসে কথা বলুক।”
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রামে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাংবাদিক জানতে চেয়েছিলেন, পার্শ্ববর্তী দেশে থাকা শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় নির্বাচনের বিষয়ে বিভিন্ন হুমকি ও বক্তব্য দিচ্ছেন; এতে ভোটারদের উদ্বিগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা নেই কি?
উত্তরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যারা দেশ থেকে পালিয়ে অন্য জায়গায় আছে, ওখান থেকে যেকোনো কথা বললেও কোনো মূল্য নেই। যদি সাহস থাকে, দেশের ভেতরে এসে আইনের আওতায় তাদের বক্তব্য দিক। পালায়ে থাকা অবস্থায় তাদের কোনো বক্তব্য ভোটারদের শঙ্কিত করবে না।”
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবির ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ বাহিনীর ১০৪তম রিক্রুটিং প্যারেড সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের বা নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য কী ব্যবস্থা নিয়েছেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নির্বাচনে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের জন্যই তো ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না। আপনারা যদি সবাই সহযোগিতা করেন নির্বাচন খুব শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে।
আরাকান আর্মির সীমান্ত আইন লঙ্ঘন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার একটি বৈধ রাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমানে রাখাইন সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির দখল রয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে নেই, এ কারণেই আমাদের সমস্যা হচ্ছে। বাংলাদেশের যোগাযোগ মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে রয়েছে এবং সীমান্তে কোনো ঘটনা ঘটলে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে আরাকান আর্মিকে এখনো বৈধতা দেওয়া হয়নি। তারা বিভিন্নভাবে সীমান্তে সমস্যা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মাঝে মাঝে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ হলে সেখান থেকে গোলা এসে বাংলাদেশের ভেতরে পড়ে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে প্যারেড সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আগামী এয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠ শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
আপনাদের যে কোনো ধরণের অনৈতিক পক্ষপাতমূলক বা দায়িত্ব বর্হিভূত আচরণ ও কর্মকান্ড যা নির্বাচন প্রভাবিত বা বিঘ্নিত করতে পারে, তা থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত থাকার জন্য আপনাদেরকে সুষ্পষ্টভাবে নির্দেশনা প্রদান করছি।
এসআর