ভোলায় অস্ত্রোপচারের পর ভুল রক্ত সঞ্চালনের কারণে লামিয়া (১৯) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে ‘বন্ধন হেলথ কেয়ার’ নামের একটি ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। নিহত লামিয়া ভোলা পৌরসভার আবহাওয়া অফিস সড়ক এলাকার মো. শরিফের স্ত্রী। এ ঘটনায় উত্তেজিত রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকে হামলা চালান এবং ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ভোলা শহরের কালিনাথ রায়ের বাজারে অবস্থিত বন্ধন হেলথ কেয়ারের সামনে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয়রা। এ সময় তারা ক্লিনিকের মালিক ও স্টাফদের বিচারের দাবি জানান। এর আগে বিকেল ৫টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান লামিয়া।
লামিয়ার স্বজনরা জানান, গত বুধবার প্রসূতি লামিয়াকে ভোলা শহরের বন্ধন হেলথ কেয়ারে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রথমে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করা হয়। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। এরপর ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ প্রসূতিকে রক্ত দেওয়ার কথা জানায় এবং তাদের কাছে এক ব্যাগ বি পজিটিভ রক্ত আছে বলে জানিয়ে ক্রস ম্যাচের জন্য টাকা নেয়। পরে তাকে এক ব্যাগ রক্ত সঞ্চালন করা হয় এবং আরও এক ব্যাগ ও পজিটিভ রক্ত ম্যানেজ করতে বলা হয়। রক্ত সঞ্চালনের পর থেকেই প্রসূতির শরীরে অস্থিরতা দেখা দিলে তাকে দ্রুত বরিশালে পাঠানো হয়। বরিশালে নেওয়ার পর তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হলে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।
বরিশালে নেওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসকরা জানান, রোগীকে ভুল রক্ত সঞ্চালন করা হয়েছে। মৃত্যুসনদেও ভুল রক্ত সঞ্চালনের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় লামিয়ার স্বজনরা ক্লিনিকের মালিক ও স্টাফদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ভোলা সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিয়া উদ্দিন জানান, ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভোলার বন্ধন হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্লিনিকের সামনে অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
এএম/আরএন