খুলনার ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম রাজীব হোসেন ওরফে ঘাউরা রাজিব। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতিসহ ১৪ টি মামলার রেকর্ড পাওয়া গেছে। সে পূর্ব বাংলার কমিউনিষ্ট পার্টি (এম এল) সক্রিয় ক্যাডার ছিল। গত ৩ মাস পূর্বে গোপালগঞ্জ থেকে সে খুলনায় আসে। এই চরমপন্থির একাধিক স্ত্রী ও সন্তান থাকার বিষয়টি পুলিশের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। মাথায় আঘাত করেই রাজিবকে হত্যা করা হয়।
শনিবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে রাজীবের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
এর আগে গতকাল শুক্রবার খুলনার ৬নং ঘাট এলাকার ভৈরব নদের দ্রুতি লাইটার ভেসেলের মাঝখান থেকে চরমপন্থী রাজীবের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।
শনিবার দুপুরে হাসপাতালের সামনে রাজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিনের সাথে কথা হয়। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, এক বছর পূর্বে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই খুলনা থেকে গোপালগঞ্জের মোকছেদপুর রাজিবের মামা বাড়িতে অবস্থান করি। গত ডিসেম্বর মাসে খুলনার দিঘলিয়া দেয়াড়া লাভলুর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করি। তার সম্পর্কে আগে কিছু না জেনেই তাদের বিয়ে হয়।
ঘটনার বিবরণ জানিয়ে তিনি বলেন, শনিবার রাতে মোবাইলে একটি ফোন আসে। তাকে জানানো হয় বিকাশ থেকে টাকা তুলতে যাচ্ছি। এরপর থেকে তার আর কোন সন্ধান পায়নি। তার সন্ধানে রাতে খুলনা মেট্রোপলিটনের ৮ টি থানা এবং নৌ পুলিশের কাছে যাই। তার কোন সন্ধান না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসি।
রাজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী ফারহানা ইয়াসমিন আরো বলেন, নিহত রাজীব পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির সক্রিয় ক্যাডার ছিল। তার বিরুদ্ধে ১৪ মামলা রয়েছে বলে জানতে পারি। এরমধ্যে ৭ টি মামলার নিস্পত্তি হয়েছে। আরো ৭টি মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমানে সে সকল নিষিদ্ধ কার্যক্রম বাদ দিয়ে দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু ভাল হতে গিয়ে তার পূর্বে সহকর্মীরা তাকে বাঁচতে দিল না। তাকে মেরে ফেলল। তিনি এ হত্যাকান্ডের বিচার চান। খালিশপুর থানায় স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা করবেন।
রাজীবের প্রথম স্ত্রী লিয়া খাতুন বলেন, ২০১৬ সালে আমাদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। ওই সময় সে একবার আক্রান্ত হয়েছিল। তার ডান হাতের রগও কেটে দিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। গত ৪ বছর আগে তাদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। বর্তমানে তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে নিয়ে ঢাকায় একটি গার্মেন্টেসে কাজ করছি। শনিবার সকালে তার মৃত্যুর সংবাদ শুনে খুলনায় আসি।
রাজিবের ঘনিষ্ট বন্ধু গিয়াস খলিফা বলেন, শনিবার নিখোঁজ হওয়ার পর রাজীবের দ্বিতীয় স্ত্রী বিষয়টি জানালে তার সাথে আমি বিভিন্নস্থানে সন্ধানে যাই। এর ভেতর বিভিন্নস্থান থেকে মোবাইল আসতে থাকে রাজীবের অবস্থান কোথায়।
খুলনা নৌ পুলিশ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বাবুল আক্তার জানান, দুপুরের পর মরদেহ নিহত রাজীবের দুই স্ত্রী’র কাছে দেওয়া হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে। তার মাথার পেছনে গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ওই আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি আরও জানান, তার বিরুদ্ধে খুলনার বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ রয়েছে। নিহত রাজীব চরমপন্থী দলের সদস্য ছিল বলে বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। পরিবার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তদন্তে সবকিছু বের হয়ে আসবে।
এই কর্মকর্তা আরো বলেন, গত ৩ জানুয়ারী (শনিবার) রাজিব নিখোঁজ ছিল। এক সপ্তাহ পর তার ফুলেফেপে ওঠা লাশ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে নিখোঁজ হওয়ার দিনই তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে- রাজিব ছিল প্রচন্ড ঘাউরা। সে পূর্ব বাংলা কমিউনিষ্ট পার্টির (এম এল) শীর্ষ ক্যাডার ছিল। তবে সে চেইন অব কমান্ড মানতো না। অপরাধ করে সে তার মামা বাড়ি গোপালগঞ্জের মোকছেদপুরে আশ্রয় নিতো।
এসএমএস/এসআর