ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শিরোনাম
Advertisement
কক্সবাজার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মহড়া
✎ অবজারভার প্রতিনিধি
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
X

সকালবেলা। কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ওপাশ থেকে জানানো হয়, ‘ব্লুওয়েব এয়ারওয়েজ’-এর বিডব্লিউএ–৭৮৯ ফ্লাইটের ভেতরে একটি বোমা রাখা হয়েছে, যা যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারে। মুহূর্তেই পাল্টে যায় বিমানবন্দরের দৃশ্যপট। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে দ্রুত বিষয়টি বিমানবন্দর পরিচালক ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইনচার্জকে জানানো হলে পুরো বিমানবন্দর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়।

অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র‍্যাব, বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, আনসার ও ডগ স্কোয়াড দ্রুত অবস্থান নেয়। প্রস্তুত রাখা হয় ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স।

এটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়; বরং কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো আয়োজিত একটি বৃহৎ নিরাপত্তা মহড়ার খণ্ডচিত্র।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে শুরু হয় মূল উদ্ধার অভিযান। প্রথমে বিমানটি ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিমান থেকে ৮ জন যাত্রী ও ২ জন কেবিন ক্রুকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার চলাকালে এক যাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর বোমা ডিসপোজাল ইউনিট বিমানের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে একটি ব্রিফকেসে থাকা বোমাটি শনাক্ত করে এবং অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা নিষ্ক্রিয় করে। শেষে সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের ডগ স্কোয়াড পুরো বিমানে তল্লাশি চালিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে দুপুর ১২টায় শেষ হয় এই সফল মিশন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আয়োজিত এই মহড়াটি প্রতি দুই বছর অন্তর আয়োজনের নিয়ম থাকলেও কক্সবাজারে এটিই ছিল প্রথম। বেবিচকের নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবালের নেতৃত্বে এই উদ্ধার তৎপরতা পরিচালিত হয়।

এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, “এই মহড়ার প্রধান লক্ষ্য ছিল আমাদের প্রস্তুতির সার্বিক অবস্থা যাচাই করা এবং কোথায় কী ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করা। এসব ঘাটতি মূল্যায়নের জন্য একটি ইভ্যালুয়েশন টিম গঠন করা হয়েছে, যারা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। পাশাপাশি এপিবিএন, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোও ছিল এই মহড়ার অন্যতম উদ্দেশ্য।”

মহড়াটি পর্যবেক্ষণ করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতা যাচাই করতেই এই আয়োজন। আসন্ন আইকাও (ICAO) অডিটে এই মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক মানের এই অডিটে আমাদের দক্ষতা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

তিনি আরও জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করার কাজ এবং অত্যাধুনিক টার্মিনাল ভবন নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব কাজ সম্পন্ন হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যুক্ত হবে।

এসইউ/আরএন


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝