মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর হাসপাতালের বেডে অচেতন অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন আছেন কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া পাবনার বকুল।
জানা যায়, গত ২০০৭ সালের কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া আসেন পাবনা জেলার আতাইকুলা থানার শ্রীকোল গ্রামের মৃত মোজাম্মেল মোল্লার প্রবাসী ছেলে বকুল হোসেন।
প্রাথমিক আবস্থায় কোম্পানি ভালো হলেও কম বেতনের কারণে বাড়ি থেকে জমি বিক্রি করে চড়া সুদে ঋণ করে আসা টাকা পরিশোধ ও পারিবারিক চাহিদা মেটাতে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও দেশে ফেরা হয়নি বকুলের।
পরবর্তীতে মালয়েশিয়া সরকার রি-হিয়ারিং প্রোগ্রাম চালু করলে অনেক অবৈধ প্রবাসীদের মতো বকুলও মাইজির মাধ্যমে বৈধ হবার জন্যে আবেদন করেন। কিন্তু অনেকেই ভিসা পেলেও দুর্ভাগ্য বসত বকুলের কপালে আর মেলে নাই মালয়েশিয়ায় থাকার বৈধ পারমিট। এই অবৈধ থাকার দুঃশ্চিন্তা এবং অনিয়মতান্ত্রিক চলাফেরার কারণে আস্তে আস্তে অসুস্থ হয়ে পড়েন বকুল।
গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে যান বকুল হোসেন, প্রাথমিক ভাবে কিছু চিকিৎসা নিলেও তার কোন উন্নতি হয় না, পরে উপায়ন্ত না দেখে মালয়েশিয়া কুয়ালালামপুর হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। ভর্তি হলে কর্তব্যরত ডাক্তার বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানান, তার দুইটা কিডনিই ধীরে ধীরে অকেজ হয়ে যাচ্ছে।
এভাবে কিছুদিন চিকিৎসা নেবার পর একটু সুস্থ হলেই আবার চলে আসতেন বাসায়। একবার হাসপাতালে ভর্তি হলেই খরচ গুণতে হয় অন্তত ৫ থেকে ৬ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত। যা বাংলাদেশি টাকায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা।
মালয়েশিয়ায় থাকা বকুলের আত্মীয় আসলাম ও লোকমান হোসেন জানান, আমার মামা বকুল হোসেনকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৭/৮ বার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এতে প্রায় খরচ হয়েছে ৫০/৬০ হাজার রিংগিত বা ১০/১২ লাখ টাকা। আর এই টাকার যোগান দিতে দেশ থেকে জমিজমা বিক্রয় এবং ধার দেনা করে আনা হয়েছে। আজ গত এক সাপ্তাহ হলো মামার কোন জ্ঞান নাই অচেতন অবস্থায় আছে। জানিনা আবার হাসপাতালের বিল কতো হয়েছে।
এবিষয়ে লোকমান ও আসলাম প্রবাসী দিগন্তকে বলেন, আমরা বকুল হোসেনকে দেশে পাঠানোর জন্যে মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে অনেকবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু নরমাল ফ্লাইট না থাকার জন্যে তাকে দেশে পাঠানো সম্ভব হয় নাই। তাই মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করবো যেন তাকে উন্নত চিকিৎসা এবং স্পেশাল ফ্লাইটের মাধ্যমে খুব দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
এদিকে বাংলাদেশে থাকা বকুলের মা বলেন, আমার ছেলে মালয়েশীয়া হাসপাতালে ভর্তি আছে আমি আমার ছেলের উন্নত চিকিৎসা ও দেশে ফেরত চাই।
বকুলের স্ত্রী বলেন আমার কোন ছেলে সন্তান নাই শুধু তিনটা মেয়ে এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জন ব্যক্তি আমার স্বামী। সে আজ ৫/৬ মাস অসুস্থ জমি জমা ও ঋণ করে তার চিকিতসার জন্য মালয়েশিয়ায় টাকা পাঠাচ্ছি। এখন মেয়েদের মুখে তিন বেলা ভাত তুলে দিতেই আমি হিমসিম খাচ্ছি। বকুলের মেয়েরা ও বাবার উন্নত চিকিৎসার জন্যে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ করেন এবং তাকে স্পেশাল ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে প্ররনের জন্যে অনুরোধ করেন।
দেশে থাকা তার আত্মীয় ও প্রবাসে থাকা সবাই রেমিটেন্স যোদ্ধা বকুল হসেনের জন্য প্রধানমন্ত্রী, এমপি, জেলা প্রশাসন, সমাজের বিত্তবান, অর্থশালী, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবীদের কাছে আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেন। সূত্র: প্রবাসী দিগন্ত।
এএম/এইচএস