২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের মামলার রায় ঘিরে পুরান ঢাকার অস্থায়ী আদালত ও এর আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিপুল সংখ্যক পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা পুলিশ।
বুধবার ভোর থেকে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ, নাজিম উদ্দিন রোডের পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগার ছাড়াও সড়কে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। প্রস্তুত রয়েছে জলকামান ও প্রিজন ভ্যান।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের বিশেষ আদালতের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য সতর্ক পাহারায় রয়েছেন। সাত রৌজা মোড় থেকে কারাগার সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
চানখারপুল মোড় থেকেও গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। চকবাজার থেকে কারাগার অভিমুখে কোনো গাড়ি ঢুকতে পারছে না। ব্যারিকেড বসানো হয়েছে মোড়ে মোড়ে। যাতায়াতকারীদের পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩১ আসামিকে সকালে বকশীবাজারের আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে এনে রাখা হয়েছে। এজন্য আলিয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে কারাগারের সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
রায়কে কেন্দ্র করে ওই এলাকার দোকান-পাট বন্ধ রয়েছে। একে বিপকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
লালবাগ জোনের ডিসি ইব্রাহীম খান জানান, রায় ঘিরে নাজিম উদ্দিন রোড ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ঠিক করেন বিচারক।
বর্বর এ হামলার ঘটনায় দায়ের দুই মামলায় মোট আসামি ছিল ৫২ জন। বিচার চলাকালীন আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এজন্য বর্তমানে মামলা দুটিতে মোট আসামি ৪৯ জন।
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভায় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন শতাধিত নেতাকর্মী।
এ ঘটনায় মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক ফারুক হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল ও সাবের হোসেন চৌধুরী বাদি হয়ে মতিঝিল থানায় পৃথক তিনটি এজাহার দায়ের করেন।
-এমএ