দেশের জনপ্রিয় ও গুণী অভিনেতা আব্দুল কাদের ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না...রাজিউন)। শনিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার আরিফ মাহমুদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তার মরদেহ মরদেহ হাসপাতাল থেকে বাসায় নেয়া হবে।
অভিনেতা আবদুল কাদের প্যানক্রিয়াসের (অগ্ন্যাশয়) ক্যান্সারে অনেকদিন ধরে আক্রান্ত ছিলেন। ক্যান্সার জটিল আকারে ছাড়িয়ে পড়েছিল সারা শরীরে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে তাকে গত ০৮ ডিসেম্বর ভারতের চেন্নাইয়ের ভেলোর শহরের সিএমসি হাসপাতালে নেয়া হয়।
সেখানে চলছিল তার চিকিৎসা। এরপর আবার গত ২০ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যুর গুজব ছড়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এর আগে গত সোমবার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার কোভিড-১৯ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। এরপর থেকে এভারকেয়ারের করোনা ইউনিটে ভর্তি ছিলেন আব্দুল কাদের।
আবদুল কাদেরের জন্ম মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানার সোনারং গ্রামে। তার বাবা মরহুম আবদুল জলিল। মা মরহুমা আনোয়ারা খাতুন। স্ত্রী খাইরুননেছা কাদেরের সঙ্গে সুখের দাম্পত্যে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। রেখে গেছেন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও বন্ধু স্বজন।
আবদুল কাদের হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ ধারাবাহিক নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। এছাড়াও তিনি হুমায়ূন আহমেদের ‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকে দুলাভাই চরিত্রেও দারুণ প্রশংসিত হন।
বহু একক ও ধারাবাহিক নাটকের পাশাপাশি তাকে নিয়মিত দেখা গেছে বিটিভির জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’-তে। ‘রং নাম্বার’সহ কিছু সিনেমাতেও অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন আব্দুল কাদের।
-এমএ