সড়ক মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা প্রদানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ফেনীর মহিপালে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ট্রমা সেন্টার। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ১৩ বছরেও পুরোদমে চালু না হওয়ায় সেখানে সৃষ্টি হয়েছে ভূতুড়ে পরিবেশ। দেখভাল ও সংরক্ষণের অভাবে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়াসহ গাছ গাছালিতে ভরে গেছে সেন্টারটির চারপাশ। এর ফলে রাতে এখানে বসে মাদকের আড্ডা। লোকবল না থাকায় দামী ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চুরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
জানা যায়, ২০০৬ সালে গণপূর্ত বিভাগ ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার ফেনী ট্রমা সেন্টারের নির্মাণ কাজ শেষ করে। পরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ সকল সুযোগ-সুবিধা দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আউটডোর ও ইনডোর চালু করার ঘোষণাও দেয়। কিন্তু সেই থেকে এখন পর্যন্ত বাস্তবের কোন দেখা পায়নি স্থানীয়রা। প্রতিদিন মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হাত-পা ভাঙ্গা চরম মুমূর্ষু রোগী ও দূর-দুরান্ত থেকে রোগীরা ছুটে এলেও পাচ্ছেন না কাঙ্খিত সেবা।
প্রথম দিকে এখানে লোকবল থাকলেও পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন স্থানে প্রেষণে বদলী করা হয়। দীর্ঘদিন লোকবল না থাকায় আইসিইউ, সিসিইউসহ এক্সরে, ইসিজি, জেনারেটর, আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও অপরেশন থিয়েটারের সকল প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার পথে। বর্তমানে দু’জন মেডিকেল অফিসার ও একজন ফার্মাসিস্টসহ ৮ সেবিকা ছাড়া নেই সার্জারী চিকিৎসক।
বিদ্যুৎ, পানি ও খাদ্যের বরাদ্দে নেই কোন ব্যবস্থা। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে এই হাসপাতালে সবই ছিল। সরকারি বরাদ্দ না দেওয়ায় বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল ও পৌর কর বকেয়া পড়ে। এসব বিল দীর্ঘদিন পরিশোধ না করায় প্রতিষ্ঠানসমূহ ট্রমা সেন্টারটিতে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। ফলে এখন কোন ভাবে আউটডোরে চিকিৎসা চলছে অন্ধকারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রাজু আহমেদ বলেন, 'দুর্ঘটনা কবলিত রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে জেলা সদর হাসপাতালে গিয়েও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেখানে থেকে তাদের পাঠানো হচ্ছে ঢাকা অথবা চট্টগ্রামের পঙ্গু হাসপাতালে। তাই সেন্টারটি দ্রুত চালুর দাবি জানাচ্ছি।'
স্থানীয় মহিপাল সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ফাহিমুল ইসলাম বলেন, 'দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতে অসুস্থ এই ট্রমা সেন্টারটি দ্রুত সুস্থ করার দাবি ফেনীবাসীর।'
ফেনী ট্রমা সেন্টারে কর্মরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী সানজিদা আক্তার বলেন, 'প্রতিদিনই আমরা এই হাসপাতালে রোগীদের সেবা দিয়ে থাকি। যদিও আপাতত এখানে বিদ্যুৎ, পানিসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো নেই। এতে আমরা যারা অল্প কয়জন এখানে কর্মরত আছি, সবারই সমস্যা হচ্ছে।'
ফেনী সিভিল সার্জন ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, 'ফেনীর মহিপালে ট্রমা সেন্টারটি স্থাপন সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল। ঢাকা-চট্টগ্রামের একটি কী পয়েন্টে ফেনী দাঁড়িয়ে আছে। এক্সিডেন্ট হলে চমৎকার লোকেশনের কারণে দুর্ঘটনায় আহত রোগীরা এখানে আসতে পারতো। নিঃসন্দেহে এটি একটি বড় উদ্যোগ ছিল। কিন্তু লোকবল না থাকার কারণে সেই সেবা থেকে ভুক্তভোগীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। পানি, বিদ্যুতের বিষয়টি শুরুতে সংযোজন ছিল। দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল, পৌর কর বকেয়ার কারণে, তারা আমাদেরকে বার বার নোটিশ দিয়েছে। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ না থাকার কারণে তা আমরা পরিশোধ করতে পারিনি। ফলে তারা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে। এখানে যদি লোকবল সরবরাহ করা হয়, তাহলে এখানকার ভুক্তভোগীদের উপকার হবেন।
-এমএ