প্রথমধাপে ব্যর্থ হয়ে দ্বিতীয়বারের মত পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে রাজধানীতে মিনি ডাস্টবিন বসানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। কয়েক প্রকারের মিনি ডাস্টবিনের নমুনা সংগ্রহের পর দাম, স্থায়ীত্ব ও গুণগত মান নিয়ে পযালোচনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে যথাযথ তদারকি, নিয়মিত পরিষ্কার, নিয়ন্ত্রণ এবং যথাযথ স্থানে ডাস্টবিন বসানোর তাগিদ দিয়েছেন নগর পরিকল্পনাবীদরা।
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, ৪-৫টি মিনি ডাস্টবিনের নমুনা আনা হয়েছে। সেগুলোর একেকটির দাম ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। এদের একেকটির আকারেরও ভিন্নতা রয়েছে। নমুনা ডাস্টবিনগুলোর মধ্য থেকে স্থায়ীত্ব, গুণগত মান ও কম খরচের বিষয়কে মাথায় রেখে ব্যবহার উপযোগী বাছাই করা হবে। প্রথম তিন মাস পরীক্ষামূলক একশ’ থেকে দুইশ’ ডাস্টবিন বসানো হবে। ভালো ফলাফল পেলে ধারাবাহিকভাবে পুরো উত্তর সিটি করপোরেশনে এসব মিনি ডাস্টবিন বসানো হবে। নতুন ডাস্টবিনগুলোতে পলিব্যাগ ব্যবহার করা হবে যাতে দ্রুত ময়লা পরিষ্কার করা যায়। চুরি ঠেকানোর জন্যও যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
এর আগে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে ২০১৬ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে রাজধানীর সড়কগুলোতে বসানো হয়েছিল প্রায় ১১ হাজার মিনি ডাস্টবিন। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ছিলো ৫ হাজার ৭০০টি। বাকিগুলো উত্তর সিটি করপোরেশনের। যার বেশির ভাগেরই অস্তিত্ব এখন নেই। কিছু ডাস্টবিন অযত্নে নষ্ট হয়েছে আবার কিছু চুরি হয়েছে। এসব ডাস্টবিন কয়েক বার সংস্কার ও চুরি হওয়ার পর দুই সিটি করপোরেশন অনেক ডাস্টবিন পুনঃস্থাপনও করেছে। তবে সেগুলোও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। প্রতিটি বড় বিনের দাম পড়েছিল ১২ হাজার এবং ছোট বিনের দাম ৬ হাজার ৪শ টাকারও বেশি। ডাস্টবিনগুলো মেরামত করতেও একেকটির পেছনে গড়ে খরচ হয়েছে দুই হাজার টাকার বেশি।
জানা যায়, যথাযথ তদারকি না থাকায় এবং নিয়মিত আবর্জনা অপসারণ না করায় এর সুফল পায়নি নগরবাসী। বেশির ভাগ ডাস্টবিন চুরি হয়ে গেছে, আর কিছু ডাস্টবিন ব্যবস্থাপনার অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। যে কয়েকটি ডাস্টবিন এখনও টিকে রয়েছে সেগুলোর অবস্থাও জরাজীর্ণ।
কয়েকজন নগরবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের ডাস্টবিনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হতো না বলেই সেগুলোতে ময়লা ফেলার খুব একটা আগ্রহ ছিল না তাদের। ফলে অধিকাংশ ডাস্টবিনই খালি পড়ে থাকতো। বেশির ভাগ সময়ই ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতো ডাস্টবিনের নিচে ও আশপাশে। এছাড়া সেগুলো চুরি হয়ে যেত।
তবে এসব অভিযোগের বিপরীতে কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, ফুটপাত দখল করতে গিয়েই বিনগুলো ভেঙে ফেলা হয়েছিল। অনেক জায়গায় ভাঙতে না পেরে উল্টো করে বেঁধে রাখা হতো, যেন কেউ এগুলো ব্যবহার করতে না পারে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম. মঞ্জুর হোসেন অবজারভারকে বলেন, মিনি ডাস্টবিনের জন্য কয়েকটি ডিজাইন আমরা পেয়েছি। সেগুলোর বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। বাছাইয়ের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ফুটপাতে এগুলো বাসানো হবে। আমরা প্রথম তিন মাস দুইশ’ মিনি ডাস্টবিন পরীক্ষামূলক বসাবো। ডাস্টবিনগুলোর স্থায়ীত্ব এবং গুণগত মান দুই-তিন মাস যাচাই করবো। দেখার পর যদি ভালো মনে হয় তবে ধারাবাহিক ভাবে পুরো উত্তর সিটি করপোরেশনে আবারও এসব মিনি ডাস্টবিন বসানো হবে।
ডাস্টবিনের তদারকি, নিয়ন্ত্রণ ও পরিষ্কারের জন্য আলাদা কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয়া হবে। যারা ডাস্টবিনগুলো নিয়ন্ত্রণ, তদারকি এবং পরিষ্কার করবে বলেও জানান তিনি।
ফুটপাতে ডাস্টবিন বসানোর ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান করেছেন স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবীদ ইকবাল হাবিব। তিনি অবজারভারকে বলেন, যে ধরনের ডাস্টবিন ব্যবহার করতে হবে সেগুলোর কম্পোনেন্ট খোলা যাবে না। যা চুরি করার সম্ভাবনা থাকবে না। এটা নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেকটি ডাস্টবিন কোন দোকান বা বাড়ির সামনে বসাতে হবে। এবং সেই দোকান বা বাড়ির মালিক সামনের ডাস্টবিনগুলোকে নিয়ন্ত্রণ এবং দেখভাল করবেন। এতে তার দোকান বা বাড়ির ট্যাক্স প্রণোদনা হিসেবে কমানো হবে। এর মাধ্যমে ডাস্টগুলোর ব্যস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। ডাস্টবিনগুলো যথাযথ জায়গায় বসাতে হবে। ফুটপাতে মানুষের চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করে এমন জায়গায় ডাস্টবিনের অবস্থান হতে পারবে না। এই তিনটি বিষয়েকে মাথায় রেখে ডাস্টবিন বসানোর কাযক্রম করলে আমি মনে করি এটা দীর্ঘ স্থায়ীত্ব পাবে।
-এমএ