বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, আজ এই দিন যেদিন আওয়ামী লীগ রাতের আঁধারে জনগণের ভোট ডাকাতি করে স্বাধীনতার চেতনা, ত্রিশ লাখ শহীদ আর অজস্র মা বোনের ইজ্জতের সাথে বেইমানি করেছে। এই দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূলমন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে স্বাধীনতার পর পরই। শেখ হাসিনা সেটাকে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।
সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কাযালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, '২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও তার আগের রাতে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় ‘৭৫ এর একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ভিন্ন মডেলে কায়েম করেছেন। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর পিতার সেই বাকশালকে বাস্তবে রুপদান এবং তা সম্প্রসারিত করতে সক্ষম হয়েছেন।'
তিনি বলেন, 'একাদশ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে সরকার শুরু করেছিল দেশব্যাপী সর্বগ্রাসী গায়েবী মামলা আর গ্রেফতারের হিড়িক। কবরের লাশ থেকে শুরু করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী, হজ্বব্রত পালনরত অবস্থায় মক্কায় অবস্থানকারী, দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি কেউই বাদ যায়নি সেই সব গায়েবী মামলা থেকে। স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে, মায়ের কাছ থেকে সন্তানকে, সন্তানের কাছ থেকে পিতাকে ছিনিয়ে নিয়ে কারাগারগুলো ভরে ফেলা হয়। তারপরও বিরোধী দলের যেসব নেতাকর্মী অবশিষ্ট ছিল তাদের ওপর চলে ভয়াভয় নির্যাতন। তাদেরকে আক্রমণের মাধ্যমে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে।'
বিএনপির এই নেতা বলেন, 'বিএনপি প্রার্থীদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। তালিকা ধরে ধরে এজেন্টদের হয় এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। এক এলাকা থেকে ধরে আরেক এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। এরপরেও যারা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছেন তাদেরকে আটক করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বাছাই করে দলীয় ক্যাডারদের। আর ২৯ ডিসেম্বর রাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের লোকেরা রাতভর ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে। আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোটের দিন যারাই কেন্দ্রে যাবার চেষ্টা করেছে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এই ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নমূনা।'
তিনি বলেন, 'নির্বাচনের পৃথিবীর সকল গণতন্ত্রবিনাশী নিষ্ঠুর একদলীয় শাসকরা নিজেদের অবৈধ কর্মকান্ডকে বৈধ বলে চালানোর চেষ্টা করে। যেমন শেখ হাসিনা আজ ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালনের ঘোষণা দিয়েছেন গণতন্ত্রের লাশের ওপর বিজয় পতাকা উড়িয়ে। জনগণের সঙ্গে এটি একটি মস্তবড় তামাশা। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট আগের রাতে অন্ধকার কক্ষে ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বে নজীরবিহীন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে বিশ্বশুদ্ধ মানুষ ভোট ডাকাতির এই অভিনব নির্বাচন দেখেছে। শুধু তাই নয় দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমগুলোতে সেটি ব্যাপক ভাবে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। অথচ সেই গণতন্ত্র হত্যাকে গণতন্ত্রের বিজয় বলে পালন করছে দুই কান কাটা সরকার।'
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, 'আজকেও বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বাধা দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের পূর্বঘোষিত সমাবেশের কর্মসূচিকে বানচাল করতে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশ সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশপাশের সড়ক এবং অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধংদেহী পরিবেশ তৈরী করে রেখেছে গোটা নয়াপল্টন এলাকায়।'
তিনি বলেন, 'সারাদেশটাই যেন আওয়ামী লীগের তালুকদারীতে পরিণত হয়েছে। যখন তখন যেকোন সময় আওয়ামী লীগ যেকোন স্থানে সভা-সমাবেশ করতে পারে। অথচ বিরোধী দল ও ভিন্ন মতের মানুষদের সেই অধিকার নেই। এদেশে শুধুমাত্র একজনেরই গণতান্ত্রিক অধিকার আছে তিনি হলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে এক ব্যক্তিকেন্দ্রীক গণতন্ত্র চলছে। একমাত্র শেখ হাসিনার কন্ঠস্বরের স্বাধীনতাই রয়েছে চরম পর্যায়ে। আর শেখ হাসিনার এই দুঃশাসনে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতের মানুষরা সাবহিউম্যান পর্যায়ে।
বিএনপি’র উদ্যোগে আজ সমাবেশ করতে না দেয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে বলেও জানান বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদ।