জয়পুরহাটে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভার ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না রাখা এবং এক বক্তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হট্টগোলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসককে (ডিসি) অপসারণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে জয়পুরহাট জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাইম ইসলামের ফেসবুক পোস্টে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসনের আয়োজিত অনুষ্ঠানের ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ছবি রাখা হয়নি। এ ছাড়া এক বক্তা তাঁর বক্তব্যে বারবার শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে সম্বোধন করলেও জেলা প্রশাসক নীরব ভূমিকা পালন করেন। এসব ঘটনায় জেলা ছাত্রদল তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসককে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় দাবি আদায়ে পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জয়পুরহাট জেলা শাখার সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ শুভ ও সাধারণ সম্পাদক কে এম শাকিল হোসেনের নির্দেশনায় এ বিবৃতি দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষর করেন জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাঈম ইসলাম। মুঠোফোনে ছাত্রদলের জেলা শাখার সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ শুভ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে জেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অনুষ্ঠানের ব্যানারটি জেলা প্রশাসক নিজেই নির্ধারণ করেছিলেন। তবে তাঁরা আগে ব্যানারটি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। অনুষ্ঠানে এসে তাঁরা ব্যানারটি টাঙানো অবস্থায় দেখতে পান।
এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এ কে এম গোলাম মাহফুজ শুভ বলেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় আমরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমরা জেলা প্রশাসকের অপসারণ চাই এবং এ দাবির জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি।’
এ বিষয়ে রোববার সকালে জেলা প্রশাসক আল-মামুন মিয়ার সরকারি মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, শনিবার সকালে জয়পুরহাট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভার মূল ব্যানারে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছবি না থাকাকে কেন্দ্র করে প্রথমে অসন্তোষ ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরে ব্যানারে তাঁর ছবি সংযুক্ত করে অনুষ্ঠান শুরু করা হলেও এক বক্তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।
এসআই/আরএন