পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও সর্বাধুনিক সুবিধাসংবলিত বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার তাগিদ নিয়ে আজ রোববার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব নগর পরিকল্পনা দিবস’। টেকসই নগর উন্নয়নে পরিকল্পনাবিদ, নীতিনির্ধারক, জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বিক নগর পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিই এই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হয়ে থাকে। চলতি বছর দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘পরিকল্পনার মাধ্যমে গড়ে ওঠে সুন্দর জনপদ’।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের দিবসে মূলত নগর সংক্রান্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে স্থানীয় নাগরিকদের মতামত, বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সার্বিক অংশগ্রহণকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। নগর উন্নয়ন সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা বাড়াতে পারলে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, জনবান্ধব, নিরাপদ ও সর্বোপরি জলবায়ু সহনশীল নগর প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় সাত দশক আগে ১৯৪৯ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট নগর পরিকল্পনাবিদ ও অধ্যাপক কার্লোস মারিয়া দেলা পাওলেরার হাত ধরে আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসটি উদযাপনের সূচনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে যা বিশ্বজুড়ে নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান অনুসঙ্গ হিসেবে স্থান করে নেয়।
দিবসটির গুরুত্ব ও দেশের বর্তমান নগর পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নগর বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘একটি শহরকে সত্যিকার অর্থে বাসযোগ্য করে তুলতে হলে শুধু কনক্রিটের বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ করলেই চলবে না। এর পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, সাশ্রয়ী আবাসন, সুশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন বা ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সার্বিক নাগরিক সেবার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।’
এসএ