রাজধানীর বাজারে জমতে শুরু করেছে শীতের সবজি। শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার ভালো সরবরাহের কারণে কিছু পণ্যের দাম কমে ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। তবে শীতকালীন সবজির এই প্রভাব এখনো পুরো বাজারে পুরোপুরি ছড়ায়নি; গাজর, টমেটো ও কাঁচামরিচ মিলছে এখনো চড়া দামে। পাশাপাশি মাছের বাজারও অপরিবর্তিত রয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই পরিস্থিতি লক্ষ করা গেছে।
খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম আগের চেয়ে কমেছে। ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। শিম মিলছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। আকারভেদে ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া মুলা বিক্রেতারা কেজিপ্রতি নিচ্ছেন ৪০ থেকে ৬০ টাকা।
তবে বাজারে কিছু পণ্যের চড়া দাম নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাধারণ বেগুন ৪০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হলেও গোল বেগুনের কেজি উঠেছে ১২০ টাকায়। টমেটো ও কাঁচামরিচ উভয়ই কেজিপ্রতি ১২০ টাকায় এবং গাজর ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। দেশি শসা ৮০ টাকা হলেও হাইব্রিড শসা পাওয়া যাচ্ছে ৬০ টাকায়।
অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউ মিলছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এ ছাড়া পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে খুচরা বিক্রি হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ীর সবজি বিক্রেতা সবজি আহমেদ বলেন, "শীতকালীন সবজির আমদানি বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে কিছু সবজির দামে। বাজারে সবজি নামা আরও বাড়লে সামনের দিকে দাম আরও নাগালের মধ্যে আসবে।"
আরেক বিক্রেতা সুমন হাওলাদার বলেন, "সবজি আসা শুরু হওয়ায় দামের এই পতন। তবে সব ধরনের শীতের সবজি পুরোপুরি আসা এখনো বাকি। এখন আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় আর কেজিতে হিসাব করলে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।"
সবজির বাজার কিছুটা ইতিবাচক হলেও মাছের বাজারে তেমন স্বস্তির খবর নেই। অধিকাংশ মাছ গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে রুই ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি দেখা গেছে।
কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় মিলছে। অন্যদিকে ইলিশের বাজার আগের মতোই চড়া। আকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; এমনকি বড় ইলিশ কোথাও কোথাও ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
এদিকে ডিমের দাম কমায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। রাব্বি নামের এক ক্রেতা জানান, আগে যেখানে ডজন ১৫০ টাকা ছুঁইছুঁই ছিল, তা এখন ১৩০ টাকায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ বৃদ্ধির কারণেই মূলত বাজারে ডিমের দাম কমতে শুরু করেছে।