যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সমর্থন কমে যাওয়া ও পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এ প্রসঙ্গে ভোটারদের প্রধান চারটি দাবি তুলে ধরেছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি তুলে ধরেন ভ্যান্স।
তিনি জানান, ট্রাম্পের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ভোটারদের আবারও রিপাবলিকান পার্টির প্রতি আকৃষ্ট করতে কী করা প্রয়োজন, তা জানতে সম্প্রতি একটি জরিপ চালানো হয়।
জরিপে ভোটারদের প্রধান চারটি দাবি উঠে এসেছে। এগুলো হলো-ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করা, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের পরিবর্তন আনা।
ভ্যান্স আরও বলেন, ভোটের দিন সকাল পর্যন্ত রিপাবলিকান সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক মনে হলেও দলের অভ্যন্তরীণ জরিপে পরাজয়ের আগাম ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।
নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না এলেও ক্ষুব্ধ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত এমন রিপাবলিকান নেতাদেরই বেছে নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি, যারা তাদের নীতি ও অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দেবেন।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধেরও ভূমিকা রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান। তবে একই সঙ্গে মানুষ ইরানের ক্ষেত্রে আমি যা করেছি, তার গুরুত্বও বুঝতে পেরেছে।’
অর্থাৎ, ইরান যুদ্ধ ঘিরে ভোটারদের অসন্তোষের প্রভাবের কথা স্বীকার করলেও দেশটির বিরুদ্ধে নিজের পদক্ষেপের পক্ষে সাফাই দিয়েছেন ট্রাম্প।
মঙ্গলবার ফক্স নিউজের ‘ডেমোক্রেসি ২৬’ অনুষ্ঠানে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘আমি বলব, ডেমোক্র্যাটদের অভিনন্দন। তারা ভালো করেছে। তারা ১১ বছর ধরে এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে তারা সেটি পেয়েছে। তবে আমি এটিকে আমার বিরুদ্ধে আঘাত হিসেবে দেখছি না।’
নির্বাচনি প্রচারণার সময় ডেমোক্র্যাটদের কমিউনিস্ট থেকে শুরু করে ইসলামপন্থি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন ট্রাম্প। সে তুলনায় নির্বাচনের পর প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রশংসা করাকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মতো এবার ফলাফল নিয়ে তার কোনো আপত্তি নেই। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাওয়ায় তাদের সঙ্গে কাজ করতেও তিনি প্রস্তুত। তবে ডেমোক্র্যাটদের পাঠানো অনেক বিলে ভেটো দেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প বারবার রিপাবলিকান ভোটারদের বলেছিলেন, ব্যালটে যেন তারা তার নিজের নাম রয়েছে বলে কল্পনা করেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি দাবি করেন, ব্যালটে তার নাম না থাকাটাই দলের পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। যদি থাকতাম, তাহলে আমরা বিশাল ব্যবধানে জিততাম!’
এসএ