আজ ৫ নভেম্বর, বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে বিদ্যালয়ে সহিংসতা ও বুলিংবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। সাইবার বুলিংসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব ধরনের নির্যাতন, হয়রানি ও সহিংসতা বন্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনেক শিক্ষার্থী সহপাঠীদের দ্বারা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অপমান, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়। কখনো সরাসরি, আবার কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাদের লক্ষ্য করে বুলিং করা হয়। এসব ঘটনা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক বিকাশ ও পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বুলিং বলতে কাউকে বারবার অপমান করা, হেয় করা, ভয় দেখানো, শারীরিকভাবে আঘাত করা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখাকে বোঝায়। অন্যদিকে সাইবার বুলিংয়ের মধ্যে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য, ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, হুমকি দেওয়া এবং অনলাইনে হয়রানি করা।
দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, সহনশীল ও বৈষম্যহীন শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা।
২০২৬ সালে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— ‘প্রতিটি শিক্ষার্থী নিরাপদ ও ভালো থাকুক: অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়ন’। এতে বিদ্যালয়ে সহিংসতা প্রতিরোধ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকদের সহায়তা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং অনলাইন নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইউনেসকোর সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর নভেম্বর মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার দিবসটি পালিত হয়। ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বুলিং প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর অভিযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি, শিক্ষকদের সচেতনতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতা জরুরি। কোনো শিক্ষার্থী বুলিংয়ের শিকার হলে বিষয়টি গোপন না রেখে শিক্ষক, অভিভাবক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত উদ্যোগেই বুলিংমুক্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলা সম্ভব।
এফএস