সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে হারুন (৩২) নামে এক পোশাকশ্রমিকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বুধবার সকালে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কলতাসুতী গ্রামের মরিচকাটা এলাকার সোনামিয়া ভিলার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে, একই এলাকায় এক মাসের মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মরিচকাটা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় হারুনের পচন ধরা মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়। মরদেহের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকায় ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
নিহত হারুনের বয়স আনুমানিক ৩২ বছর। তিনি গাজীপুরের তুরাগ এলাকার একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর বাবার নাম শাহজাহান মিঞা। তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার ফরিদপুর থানার রতনপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় পাঁচ মাস আগে স্ত্রী ও এক মেয়েকে নিয়ে কলতাসুতী গ্রামের মরিচকাটা এলাকার সোনামিয়া ভিলায় ভাড়া ওঠেন হারুন। ভবনটির দ্বিতীয় তলার তিন নম্বর কক্ষের দক্ষিণ পাশের অংশে তাঁরা বসবাস করতেন।
কবিরপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রকৃত অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।
এদিকে, মরিচকাটা এলাকায় এক মাসের মধ্যে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করেছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একই এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এআই / এফএস