গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ছবি ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষ। গত কয়েক দিনে অন্তত ছয়জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাধারণ মানুষের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং ভাঙচুরের অভিযোগও উঠেছে।
আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন গাজীপুরে সময় টিভির প্রতিনিধি ও ক্যামেরাপারসন, এখন টিভির প্রতিনিধি, কালিয়াকৈরে কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি, দীপ্ত টিভির প্রতিনিধি এবং এশিয়া পোস্টের প্রতিনিধি।
স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে যানবাহন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের ধারণা, এসব ঘটনার ছবি বা ভিডিও ধারণ করা হলে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণেই সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে ছবি তুলতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাঁদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
সর্বশেষ গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে পুরোনো কাগজে আগুন ধরিয়ে দেন আন্দোলনকারীদের একটি অংশের কয়েকজন যুবক। এ সময় তাঁদের ‘কেউ ছবি তুলবেন না’ বলে চিৎকার করতে শোনা যায়। ঘটনাস্থলে সাংবাদিকেরা উপস্থিত থাকলেও হামলার আশঙ্কায় তাঁরা ছবি ধারণ করতে পারেননি। কয়েকজন সাধারণ মানুষ মুঠোফোনে ঘটনার ছবি তুলতে গেলে তাঁদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। কারও কারও ফোন ভেঙে ফেলার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর) গাজীপুর মহানগরীর বাংলাবাজার এলাকায় শ্রমিক আন্দোলনের সময় হামলার শিকার হন তৌফিক হোসেন নামের এক পোশাকশ্রমিক। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় তৌফিক শ্রমিকদের বিক্ষোভের দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করছিলেন। এ সময় তাঁকে চিনতে না পেরে কয়েকজন পোশাকশ্রমিক মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
এ বিষয়ে বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা সম্পর্কে পুলিশ অবগত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ মুঠোফোনে ঘটনার ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের ফোন ভাঙচুর ও ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
ওসি আরও জানান, এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ছবি বা ভিডিও ধারণ করা হলে হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে যেতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই তাঁরা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাংবাদিকদের ওপর হামলা, সাধারণ মানুষের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং তথ্য ধারণে বাধা দেওয়ার এসব ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এফএস