চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্ত জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। মঙ্গলবার নিজেদের মাঠে উনাই এমেরির অ্যাস্টন ভিলাকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ম্যাচে শুরুতেই গোল করেন লামিনে ইয়ামাল। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করে বড় জয়ে অবদান রাখেন রাফিনহা। এই হারে চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে শতভাগ জয়ের রেকর্ডও শেষ হলো অ্যাস্টন ভিলার।
বার্সেলোনার বিপক্ষে এই হার এমেরির জন্য আরও হতাশার। ম্যাচের দিন ছিল তার ৫৫তম জন্মদিন। অথচ নিজের জন্মদিনে দলের এমন হার এড়াতে পারেননি স্প্যানিশ এই কোচ। বার্সেলোনার মাঠে তার দুর্দশাও যেন কাটছেই না। এখানে খেলা ১৬ ম্যাচের ১৫টিতেই হেরেছেন তিনি। এর মধ্যে আছে ৯ বছর আগের সেই বিখ্যাত ‘রেমোন্তাদা’, যখন পিএসজির কোচ হিসেবে শেষ ষোলোর প্রথম লেগে ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ফিরতি লেগে বার্সেলোনার কাছে ৬-১ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল তার দল।
ম্যাচটি অ্যাস্টন ভিলার জন্য বিশেষ হওয়ার কথা ছিল। এমেরির অধীনে চার বছরে দলের দারুণ অগ্রগতির স্বীকৃতি হিসেবে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন ক্লাবটির সমর্থক প্রিন্স উইলিয়ামও। তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথমার্ধে পাওয়া কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে দিনটি আরও স্মরণীয় হতে পারত ভিলার জন্য।
ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। গোলকিক থেকে পেছন দিক দিয়ে আক্রমণ গড়তে গিয়ে বড় ভুল করেন অ্যাস্টন ভিলার হোয়াও গোমেস। তার অন্ধভাবে বাড়ানো পাস সরাসরি চলে যায় ইয়ামালের পায়ে। ১২ গজ দূর থেকে নিখুঁত শটে বল জালে পাঠান তরুণ এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পর দ্রুত সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ভিলা। দুটি কর্নার থেকে বার্সেলোনার রক্ষণে অস্থিরতা তৈরি করে তারা। প্রথম কর্নার থেকে ম্যাটি ক্যাশের নেওয়া শট প্রতিহত হয়। পরের কর্নারে বল পেয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন গোমেস। তবে জোয়াও কানসেলোর দারুণ ব্লকে গোল পাওয়া হয়নি তাঁর।
এরপর বার্সেলোনার উঁচু রক্ষণভাগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ করে ভিলা। ১৯তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে ছুটে গিয়ে নিকোলাস জ্যাকসন বল বাড়িয়ে দেন ইয়োহান মানজাম্বিকে। কিন্তু তাঁর শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিছুক্ষণ পর আবারও গোলের সুযোগ পান জ্যাকসন। এবার বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়া এগিয়ে এসে পা দিয়ে বল আটকে দেন।
বার্সেলোনার গোলরক্ষকও অবশ্য একবার ভুল করতে বসেছিলেন। পেছন থেকে বল বের করতে গিয়ে বিপদ তৈরি করেন তিনি। তবে পরে অ্যান্থনি গর্ডনের শট ঠেকিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। এরপর মানজাম্বির আরেকটি আক্রমণও রুখে দেন গার্সিয়া।
প্রথমার্ধে পাওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দ্বিতীয়ার্ধে দিতে হয় ভিলাকে। ৫২তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে ফারমিন লোপেজের পাস পেয়ে শট নেন রাফিনিয়া। তার শট পাউ তোরেসের গোড়ালিতে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।
এর ১২ মিনিট পর আবারও গোল করেন রাফিনহা। জন ম্যাকগিনকে কাটিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে যান কানসেলো। এরপর ছয় গজ দূরত্বে থাকা রাফিনিয়ার উদ্দেশে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। সহজ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
চলতি মৌসুমে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন রাফিনহা। ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তার নামের পাশে এখন ১৩ ম্যাচে ১৯ গোল। অ্যাস্টন ভিলা অবশ্য ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে। লিওন গোরেৎসকার হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে বড় ব্যবধানে হারের শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল তাদের সামনে।
সুজুকির আরেকটি ভুল পাস থেকে বিপদে পড়েন বুবাকার কামারা। সেই আক্রমণে ফারমিনের শট ঠেকিয়ে দেন জাপানি গোলরক্ষক। অন্যদিকে ইয়ামাল আরও দুটি শট নিয়ে অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।
এই জয়ে বার্সেলোনা নিজেদের মাঠে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখাল। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা জয়ের ধারায় থাকা অ্যাস্টন ভিলাকে এবার প্রথম হারের স্বাদ নিতে হলো। তবে সামনে জেতার মতো ম্যাচ থাকায় লিগ পর্বের শীর্ষ আটে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা এখনো ভালো ভিলার।
এসএ