মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি নিয়ে মুখ খুলেছে ইরান। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহসেন রেজাই সেই চিঠি প্রসঙ্গে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘সুর সম্পূর্ণ বদলে গেছে’। ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, চিঠির জবাব এখনও দেয়া হয়নি। আর চিঠির বিষয়বস্তু সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়, দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার লক্ষ্যে রেজাইকে সরাসরি চিঠি লিখেছেন ভ্যান্স। অ্যাক্সিওস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে যেকোনও আলোচনায় ‘পারমাণবিক বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন’ বলে রেজাইকে জানিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
তবে পরবর্তীতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক প্রতিবেদনে জানায়, ‘বার্তাটির বিষয়বস্তু নিয়ে সংবাদমাধ্যমের অনুমানগুলো সঠিক নয়।’
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, ‘আমি ট্রাম্পের প্রতিনিধি ভ্যান্সের চিঠিটি পড়েছি, কিন্তু এখনও এর কোনও জবাব দিইনি। তাদের সুর সম্পূর্ণ বদলে গেছে, যা একটি ভালো লক্ষণ। এটি প্রমাণ করে যে ইরানি জাতি তার বিজয় ও শক্তিকে সুসংহত করেছে। যেহেতু তারা চিঠির বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি, তাই আপাতত আমিও এ নিয়ে কিছু বলব না।’
এদিকে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ফের ইরানে হামলা চালাতে পারে বলে গুঞ্জন চাউর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের যেকোনও ভুল পদক্ষেপের জবাব হবে ‘ভৌগোলিক সীমারেখাহীন’। যার অর্থ, যেখানে হুমকি, সেখানেই তাৎক্ষণিক পাল্টা জবাব দেবে ইরানি বাহিনী।
দেশটি সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলি আব্দুল্লাহিও নিশ্চিত করেছেন, সম্ভাব্য প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তাদের বাহিনী ‘টার্গেট ডাটাবেজ ক্রমাগত আপডেট করছে’।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে তেহরানের পারমাণবিক নীতি নিয়েও কথা বলেন রেজাই। ২০০৩ সালে প্রকাশিত প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি ঐতিহাসিক ফতোয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার নীতি মেনে চলছে দেশটি।
রেজাই জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের বিষয়ে কোনও নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আমরা আগের নীতি বজায় রাখব কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।’