ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)। প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে কেসিসির প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনাসংক্রান্ত এক সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সভায় কেসিসির সব বিভাগ ও শাখাপ্রধান এবং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে প্রশাসক বলেন, অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের উচ্ছেদের বিষয়ে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ উদ্যোগের প্রতি ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি কিছু মানুষের সহানুভূতিও রয়েছে। সব ধরনের মন্তব্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কেসিসির মালিকানাধীন ১২ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের বর্ধিত অংশসহ অনেক স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, নাগরিকেরা যেন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন এবং কর্মহীন হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র তথা সরকারের দায়িত্ব। একই সঙ্গে নগরবাসী যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনার আলোকে সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সে বিষয়ে উপস্থিত সবার মতামত চান তিনি।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা থেকে কেসিসিকে দেওয়া দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি, নগরীর সড়ক ও ফুটপাত মেরামত, পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং এ ক্ষেত্রে আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে উপস্থিত সবার মতামত চান প্রশাসক।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মতামতের ভিত্তিতে সড়ক ও ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) পুনর্বাসনের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত হয়। এ লক্ষ্যে নগরীর পাঁচটি থানা এলাকায় বিদ্যমান উন্মুক্ত স্থানে অথবা যেসব সড়কে যান চলাচল কম, সেসব স্থানে তাঁদের পুনর্বাসনের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে। এ বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কেসিসির সচিবকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় প্রশাসক অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পর উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ, কচুরিপানা অপসারণ করা পুকুরগুলোতে পুনরায় কচুরিপানা জন্মানো রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডেঙ্গুর সংক্রমণ কমাতে আগামী এক মাস পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় আগমন এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেন তিনি। চলমান সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের সুফল স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করেন প্রশাসক।
এ ছাড়া সভায় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাস্তুহারা এলাকায় বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আক্রান্ত এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিশুদের হামের টিকার আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে আগামী ১ নভেম্বর থেকে স্কুলভিত্তিক কিশোরীদের এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিজরুজ্জামানসহ বিভিন্ন বিভাগ ও শাখার প্রধান এবং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এসএস/আরএন