এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানি বয়কট করেছে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর বিয়াম অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী শুনানিতে অংশ নিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সংগঠনটি।
শুনানিতে ভোক্তা, ডিলার ও এলপিজি কোম্পানির প্রতিনিধিরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, এলপিজি সরবরাহে কৃত্রিম সংকট তৈরি, বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি এবং কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়ার প্রতিবাদে তাঁরা শুনানি বয়কট করেছেন।
সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের প্রতিবেদনে পাঁচটি এলপিজি সরবরাহকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে কি না এবং অভিযুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে চায় অর্থনীতি সমিতি।
বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি বিক্রি এবং খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি। এসব ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এক মাসে ১১ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায়ের বিষয়টি উল্লেখ করে অর্থনীতি সমিতি প্রশ্ন তুলেছে, অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে আদায় করা বাড়তি অর্থের বিষয়ে বিইআরসি কী ব্যবস্থা নিয়েছে।
সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, তাঁদের দাবি অনুযায়ী, এক মাসে বিইআরসির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রি করে ভোক্তাদের কাছ থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হয়েছে। এ অবস্থায় খুচরা বিক্রেতাদের জরিমানা করলেই কি অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি বৈধ হয়ে যায়—সে প্রশ্নও তুলেছে সংগঠনটি।
এলপিজির বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জহার নির্ধারণ নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে অর্থনীতি সমিতি। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে গণশুনানির মাধ্যমে এলপিজির মূল্যহার ও বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জহার নির্ধারণ করে বিইআরসি। সে সময় ১২ কেজির সিলিন্ডারের বিপরীতে ৫৫ টাকা চার্জহার বাড়ানো হয়েছিল।
অর্থনীতি সমিতির প্রশ্ন, পাঁচ বছর পর ২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো চার্জহার বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়ে থাকলে, ২০২১ সালে নির্ধারিত চার্জহার প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ ছাড়া লাইসেন্সধারী এলপিজি সরবরাহকারীদের পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) চার্জ বৃদ্ধির আবেদন শুনানিতে বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এতে বিইআরসির নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে অর্থনীতি সমিতি। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে প্রতি টন এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া ১২০ ডলার প্রস্তাব করা হয়েছিল। পাঁচ বছর পরও একই পরিমাণ ভাড়া প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ ভোক্তাদের পক্ষ থেকে প্রতি টনে ৬৯ ডলার জাহাজভাড়ার প্রমাণ দেওয়া হয়েছিল বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
অর্থনীতি সমিতির দাবি, চার্জহার নির্ধারণে প্রস্তাবকারী পক্ষগুলো আইনানুগ মানদণ্ড অনুসরণ করেনি এবং বিইআরসিও যথাযথ যাচাই-বাছাই করেনি।
সংগঠনটি জানায়, বিইআরসির জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কমিশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন নিষ্পত্তি না করা, কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে পাঁচটি কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে এলপিজি বিক্রির ঘটনায় আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিবাদে তারা গণশুনানি বয়কট করেছে।