ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বিশ্বজুড়ে কেন পিএইচপি জরুরি অবস্থা, বাংলাদেশ কতটা ঝুঁকিতে
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেটের একটি বড় অংশ যে প্রযুক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি কেউ ধরতে পারেনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্যে অবশেষে সেই ত্রুটিগুলো সামনে এসেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে জরুরি সতর্কতা জারি হয়েছে।

পিএইচপি একটি জনপ্রিয় সার্ভার-সাইড প্রোগ্রামিং ভাষা। কয়েক দশক ধরে ওয়েবসাইট বানাতে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। যেসব গবেষক এই ভাষার নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করতে সহায়তা করেছেন, তাঁরা সতর্ক করেছেন যে পিএইচপি-নির্ভর প্ল্যাটফর্মগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

পরিস্থিতি সামলাতে বিভিন্ন দেশের সরকার ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। ওয়েবসাইটের মালিকদের বলা হয়েছে, নিজেদের সাইটে এই ত্রুটি আছে কি না, তা পরীক্ষা করতে। ত্রুটি পাওয়া গেলে নিরাপত্তা হালনাগাদ বা প্যাচ ইনস্টল করতে হবে। দ্রুত সমাধান সম্ভব না হলে সাময়িকভাবে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখার কথাও ভাবতে বলা হয়েছে।

‘পিএইচপি২শেল’ নামে পরিচিত এই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সফল সাইবার হামলার কোনো খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে ত্রুটিগুলো প্রকাশ্যে আসার পর থেকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।

পিএইচপি কী

পিএইচপির পূর্ণরূপ ‘পিএইচপি: হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর’। এটি একটি ওপেন সোর্স ব্যাকএন্ড প্রোগ্রামিং ভাষা, যা ওয়েব সার্ভারে চলে।

১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকে গতিশীল ওয়েবপেজ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বানাতে সাহায্য করার জন্য পিএইচপি তৈরি হয়। কয়েক দশক পরও উইকিপিডিয়া, অনলাইন দোকান ও ওয়ার্ডপ্রেসসহ বহু প্ল্যাটফর্মে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। ওয়ার্ডপ্রেস এমন একটি ব্যবস্থা, যা দিয়ে অনেক ওয়েবসাইট তৈরি ও পরিচালনা করা হয়।

কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকলে পিএইচপি সেই সাইটের নানা তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর সেগুলোকে এমন একটি ওয়েবপেজের রূপ দেয়, যা ব্যবহারকারী পড়তে বা দেখতে পারেন।

ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বানানো কিংবা সেই প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্যও পিএইচপি দিয়ে নানা টুল তৈরি হয়েছে। লারাভেল, সিমফনি ও ড্রুপাল এমন জনপ্রিয় পিএইচপি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে পড়ে।

এই সপ্তাহে সামনে আসা পিএইচপির গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করতে সহায়তা করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হয়।

পিএইচপি ফাউন্ডেশন নামের একটি অলাভজনক সংস্থা এই প্রোগ্রামিং ভাষার রক্ষণাবেক্ষণ করে। এতে এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত, যারা পিএইচপির ওপর নির্ভর করে এবং ভাষাটির ‘দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি’ নিশ্চিত করতে চায়।

নিরাপত্তা ত্রুটি কী

চলতি সপ্তাহে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পিএইচপির দুটি নিরাপত্তা ত্রুটির কথা জানায়। তাদের সতর্কবার্তা ছিল, এই ত্রুটি ইন্টারনেটজুড়ে অনেক ওয়েবসাইটের কাজ বিপর্যস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ ও ক্যালিফ বলছে, ত্রুটিগুলো পিএইচপি ভাষার নিজস্ব কাঠামোর ভেতরেই ছিল। গত এক দশকে প্রকাশিত পিএইচপির বিভিন্ন সংস্করণ এতে আক্রান্ত হতে পারে।

ত্রুটি দুটির কারিগরি শনাক্তকরণ নম্বর CVE-2026-109618 এবং CVE-2026-109619। গবেষকেরা এগুলোর ঝুঁকির মাত্রা ১০-এর মধ্যে ৯ দশমিক ২ ধরেছেন।

ত্রুটি শনাক্ত করতে সহায়তা করা ক্যালিফের গবেষক রায়ান অস্টিন গণমাধ্যমকে বলেন, তাঁর শনাক্ত করা নিরাপত্তা ত্রুটির মধ্যে এটিই সবচেয়ে গুরুতর।

উইজ তাদের একটি ব্লগ পোস্টে জানায়, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে হ্যাকাররা এই ত্রুটি কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত ওয়েব সার্ভারের নিয়ন্ত্রণ নিতে এবং সংবেদনশীল তথ্য চুরি করতে পারে। তাদের ভাষ্য, পিএইচপির ওপর তৈরি সবকিছুই এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।

গরিলা সাইবার সিকিউরিটির প্রধান নির্বাহী পল স্পেন বলেন, এআইয়ের কারণে এ ধরনের হামলা আরও সহজ ও দ্রুত হয়ে যেতে পারে। তাঁর ধারণা, এই ত্রুটির কারণে লাখ লাখ ওয়েবসাইট আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জিল স্লে বলেন, কোনো হ্যাকার বা কোনো দেশ যদি এই ত্রুটিকে অস্ত্র বানিয়ে ওয়েবসাইট থেকে ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়, তা হবে ‘বিপর্যয়কর’।

কোন কোন ওয়েবসাইট আক্রান্ত হয়েছে

২১ অক্টোবর নিরাপত্তা সতর্কতা প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে নানা অনলাইন সেবায় বিঘ্ন ঘটে। এর মধ্যে ছিল গেমিং প্ল্যাটফর্ম, সরকারি ওয়েবসাইট ও অনলাইন ফোরাম। উইকিমিডিয়াও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়। অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার পেছনে থাকা এই প্রতিষ্ঠান নিজেদের কয়েকটি সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

ফিনল্যান্ড সরকার, এডিনবার্গ কাউন্সিল ও বিবিসির কিছু পেজও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বুধবার নেদারল্যান্ডসের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাও নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়। বৃহস্পতিবারের মধ্যে অনেক ওয়েবসাইট আবার চালু হয়। তবে অন্য কিছু জায়গায় সম্ভাব্য ঝুঁকি যাচাই করতে গিয়ে নানা সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বুধবার জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটও বন্ধ ছিল।

যুক্তরাজ্য সরকার বৃহস্পতিবার জানায়, কিছু সীমিত পরিসরের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ৩২টি ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানায় তারা। তবে এর কোনোটিই সাধারণ মানুষের ব্যাপক ব্যবহারের জন্য বানানো বড় কোনো সেবা ছিল না।

ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান অরেঞ্জও জানায়, নিরাপত্তা ত্রুটি সারানোর ব্যবস্থা নেওয়ার সময় তারা বিশ্বজুড়ে কিছু সেবায় প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।

শুক্রবার জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, দেশটির টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান সফটব্যাংক করপোরেশন সাময়িকভাবে ভূমিকম্প, সুনামি ও অন্যান্য দুর্যোগের জরুরি সতর্কবার্তা পাঠানো বন্ধ রেখেছে।

মাইনিচি সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সফটব্যাংকের গ্রাহকদের বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সতর্কবার্তা পাওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। কারণ, শক্তিশালী ভূমিকম্প হলেও প্রতিষ্ঠানটির মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা শোনার মতো করে সংকেত দেওয়ার কথা নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেবাটি সোমবার আবার চালু হওয়ার কথা।

কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করেছেন, যেসব ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণ দুর্বল, বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তার সীমিত সম্পদ থাকা ছোট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট, সেগুলো বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

সিডনির নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার নিরাপত্তা গবেষক সালিল কানহেরে বলেন, নিরাপত্তা ত্রুটির কারিগরি বিবরণ এখন প্রকাশ্যে এসে গেছে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে এগুলো কাজে লাগিয়ে হামলার চেষ্টা বাড়তে পারে।

নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশের পর কী ঘটেছে

বুধবার পিএইচপি ফাউন্ডেশন সফটওয়্যারটির দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা ত্রুটি সারাতে প্যাচ প্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘পিএইচপি ব্যবহারকারীদের সবাইকে দ্রুত হালনাগাদ করার জন্য জোরালোভাবে আহ্বান জানানো হচ্ছে।’ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাও ওয়েবসাইট পরিচালকদের নিজেদের প্ল্যাটফর্ম সুরক্ষিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) পিএইচপি ব্যবহার করা সব প্রতিষ্ঠানকে বলেছে, দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ ইনস্টল করা সম্ভব না হলে তাদের সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। সংস্থাটির ভাষ্য, এই ত্রুটি কোনো সিস্টেমের ডেটাবেসে হামলা চালানোর ‘সরাসরি পথ’ তৈরি করতে পারে।

সংস্থাটি বলেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিভাগ ও সংস্থাগুলোতে এসব ঝুঁকি এতটাই গুরুতর যে অবিলম্বে নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ করা প্রয়োজন।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে মানুষকে নিজেদের ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহৃত হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করার আহ্বান জানান। বুধবারের ওই পোস্টে তিনি সবাইকে ‘আজ রাতেই পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জরুরি আহ্বান’ জানান।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও দ্রুত নিজেদের সিস্টেম সুরক্ষিত করার উদ্যোগ নেয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন জানায়, পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার কয়েক দিন আগেই তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হামলার চেষ্টা হয়েছিল। তবে তাদের ওয়েবসাইট স্বাভাবিকভাবেই চলছিল।

ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের প্রধান ম্যাথিউ প্রিন্স জানান, ত্রুটিগুলো প্রকাশ্যে আসার আগের ১০ ঘণ্টায় তাঁদের নেটওয়ার্কজুড়ে এগুলো কাজে লাগিয়ে হামলার ‘হাজার হাজার’ চেষ্টা ধরা পড়েছিল। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পরের ৪৫ মিনিটে হামলার চেষ্টা বেড়ে কয়েক দশ হাজারে পৌঁছায়। দুই ঘণ্টার মধ্যে তা কয়েক লাখে দাঁড়ায়। এখন সংখ্যাটি লাখ ছাড়িয়ে মিলিয়নের ঘরে পৌঁছেছে।

শুধু ওয়েবসাইট বানাতে নয়, পিএইচপি ব্যবহার করা হয় এমন অন্যান্য সেবার পরিচালকদেরও নিজেদের সিস্টেম পরীক্ষা করতে এবং প্রয়োজনমতো নিরাপত্তা হালনাগাদ করতে বলা হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান এলআরকিউএর হুমকি বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান ড্যানিয়েল স্টুয়ার্ট বলেন, ‘এটা মনে রাখা জরুরি যে পিএইচপি শুধু ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।’

তিনি বলেন, নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি, লোড ব্যালান্সার এবং বিভিন্ন এমবেডেড ডিভাইসের ব্যবস্থাপনা ইন্টারফেসেও প্রায়ই পিএইচপি ব্যবহৃত হয়। নিরাপত্তা সংকটের সময় এ ধরনের ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই নজর এড়িয়ে যায়।

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটিতে ঝুঁকিতে থাকা সার্ভার শনাক্ত করতে কিছু সাইবার নিরাপত্তা গবেষক স্ক্যান চালিয়েছেন। তাঁদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগের হার বাড়িয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে এই অগ্রগতি যত দ্রুত হওয়ার কথা ছিল, ততটা দ্রুত হয়নি।

এআই কীভাবে জড়িত ছিল

ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করতে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের তৈরি উন্নত এআই টুল ব্যবহার করেছেন। এসব টুল কোড বিশ্লেষণ করে মানুষের তুলনায় কিংবা পুরোনো ব্যবস্থার চেয়ে অনেক দ্রুত নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারে।

নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সালিল কানহেরে বলেন, আধুনিক সফটওয়্যার অত্যন্ত জটিল। তাই কিছু নিরাপত্তা ত্রুটি বছরের পর বছর শনাক্ত না-ও হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ‘মূল ত্রুটিগুলো নতুন ছিল না; পরিবর্তন এসেছে সেগুলো খুঁজে বের করার আমাদের সক্ষমতায়।’

ওপেনএআই একটি ব্লগ পোস্টে জানায়, এই ঘটনা যেমন দেখিয়েছে এআই কীভাবে নিরাপত্তা ত্রুটি খুঁজে বের করতে পারে, তেমনি এটাও দেখিয়েছে যে এআই ব্যবহার করে হামলাকারীরা কত দ্রুত আক্রমণাত্মক টুল ও ত্রুটি কাজে লাগানোর কৌশল তৈরি করতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, পিএইচপি প্ল্যাটফর্মটি নিরাপদ কি না তা পরীক্ষা করার জন্য তারা একটি প্রোগ্রামও প্রকাশ করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার গবেষণা কেন্দ্রের রায়ান কো বলেন, ‘অতীতে যেভাবে সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে, তার মধ্য থেকেই এসব ত্রুটির অনেকগুলোর উৎপত্তি। তখন সফটওয়্যার বানানোর সময় নিরাপত্তার চেয়ে কার্যকারিতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হতো।’

আপনার জন্য এর অর্থ কী

এই নিরাপত্তা সংকট মূলত ওয়েবসাইটের ব্যাকএন্ড ও ওয়েব উন্নয়নপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এসব দেখতে পান না। তাই বেশির ভাগ মানুষেরই সরাসরি কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার নেই।

তবে যেসব ছোট ব্যবসার নিজস্ব ওয়েবসাইট আছে, বিশেষ করে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে বানানো সাইটের মালিকেরা নিজেদের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন হতে পারেন।

পিএইচপি ব্যবহার করে ওয়েবসাইট চালানো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ করে সাইট সুরক্ষিত করতে বলা হয়েছে।

কম্পিউটার ব্যবস্থার নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করতে দীর্ঘদিন কাজ করা নৈতিক হ্যাকার কেন মুনরো বলেন, ‘আপনার ওয়েবসাইট যদি কোনো হোস্টিং প্রতিষ্ঠান বা ওয়েব ডেভেলপার চালান, তাহলে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনে নিন, পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সারানো হয়েছে কি না। মনে রাখতে হবে, শুধু ওয়ার্ডপ্রেস বা এর প্লাগইন হালনাগাদ করলে এই সমস্যার সমাধান হবে না। পিএইচপি সফটওয়্যারটিকেই আলাদাভাবে হালনাগাদ করতে হবে।’

যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্রের পরামর্শ, দ্রুত হালনাগাদ বা সাময়িক সুরক্ষাব্যবস্থা চালু করা সম্ভব না হলে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা ভাবতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাও আগামী কয়েক সপ্তাহ বাড়তি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সফটওয়্যার নির্মাতাদের কাছ থেকে আসা হালনাগাদ ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘোষণা নিবিড়ভাবে নজরে রাখতে বলেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশে ঝুঁকি কতটা

পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে বিশ্বজুড়ে সতর্কতার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। ২২ অক্টোবর নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল সেবাও প্রায় ৩৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের ওয়েবসাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

২৫ অক্টোবরের সতর্কবার্তায় সরকারের কম্পিউটার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিম (বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি) জানায়, দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কিছু ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনে পিএইচপির পুরোনো বা নিরাপত্তা হালনাগাদবিহীন সংস্করণ ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই সেগুলো সাইবার হামলার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।

আক্রান্ত সার্ভারের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা ক্ষতিকর কোড চালাতে, তথ্য চুরি করতে কিংবা অনলাইন সেবা ব্যাহত করতে পারে। তবে বাংলাদেশে এই নির্দিষ্ট ত্রুটি কাজে লাগিয়ে সফল হামলার কোনো ঘটনা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা হয়নি। কতটি ওয়েবসাইট ঝুঁকিতে আছে, তারও নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি।

বিজিডি ই-গভ সিআইআরটি ঝুঁকিপূর্ণ সিস্টেম দ্রুত হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে। শুধু ওয়ার্ডপ্রেস বা এর প্লাগইন হালনাগাদ করলেই চলবে না, পিএইচপির মূল সফটওয়্যারেও নিরাপত্তা প্যাচ প্রয়োগ করতে হবে। প্রয়োজনে সাময়িকভাবে ওয়েবসাইটে প্রবেশাধিকার সীমিত রাখতে হবে।

বাংলাদেশের জন্য এই ঘটনা ডিজিটাল সেবার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা যাচাইয়েরও একটি সুযোগ। তবে বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক ওয়েবসাইট পিএইচপি ব্যবহার করে, এই তথ্যের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশের সব পিএইচপি-নির্ভর ওয়েবসাইটই আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে আছে। প্রকৃত ঝুঁকি নির্ভর করছে ব্যবহৃত সংস্করণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর।

তথ্যসূত্র: বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স ও গার্ডিয়ান
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১
E-mail: [email protected], [email protected]. [email protected], [email protected], [email protected], ‍[email protected], Online-email: [email protected]

🔝
Advertisement