ডারবানে প্রথম টেস্টে হারের পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল দক্ষিণ আফ্রিকা। গেবেখার সেন্ট জর্জেস পার্কে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ও ৩১ রানে হারিয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরানোর পথে এগিয়ে গেল স্বাগতিকরা। এই হারে ৫৬ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইনিংস ব্যবধানে হারল অস্ট্রেলিয়া।এর আগে ১৯৭০ সালে জোহানেসবার্গ টেস্টে ইনিংস ও ১২৯ রানে হেরেছিল অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ফিরে আসার পর অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস ব্যবধানে হারানোর ঘটনা এটি মাত্র দ্বিতীয়বার। এর আগে ২০১৬ সালে হোবার্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয় পেয়েছিল প্রোটিয়ারা।
বাভুমার অতিমানবীয় ইনিংস
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য চালকের আসনে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাদের বোলারদের তোপে মাত্র ১১০ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার অসাধারণ ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।
দলের বিপর্যয়ের মধ্যে ১৭৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন বাভুমা। তাঁর ব্যাটে ভর করে ৯ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর বাকি ব্যাটারদের নিয়ে আরও ৩১৫ রান যোগ করেন প্রোটিয়ারা, যা টেস্ট ক্রিকেটে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম স্মরণীয় প্রত্যাবর্তন।
৩৬ বছর ১৫৪ দিন বয়সে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে সেঞ্চুরি করা সবচেয়ে বেশি বয়সী অধিনায়ক হন বাভুমা। এর আগে রেকর্ডটি ছিল ভারতের রোহিত শর্মার। সেন্ট জর্জেস পার্কে টেস্ট সেঞ্চুরি করা দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম অধিনায়কও তিনি। এই মাঠে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংসের তালিকায় তাঁর ১৭৯ রান এখন দ্বিতীয় স্থানে। ২০০১ সালে হার্শেল গিবসের ১৯৬ রান এখনো শীর্ষে।৯৯ রানেই শেষ অস্ট্রেলিয়াদক্ষিণ আফ্রিকার বড় সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে রীতিমতো ধসে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং। মাত্র ৯৯ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা। বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন মার্কো ইয়ানসেন, তুলে নেন ৫ উইকেট।দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এটি অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় সর্বনিম্ন ইনিংস। এর চেয়ে কম রানে অলআউট হওয়ার ঘটনা আছে মাত্র দুটি—২০১১ সালে কেপটাউনে ৪৭ এবং ১৯৫০ সালে ডারবানে ৭৫ রান।
প্রথম ইনিংসে ৩২৬ রানে পিছিয়ে পড়ায় ফলোঅনে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। চলতি শতকে এটি মাত্র তৃতীয়বার, আর গত ৩৮ বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো অস্ট্রেলিয়ার কোনো টেস্ট দলকে ফলোঅন করতে হলো।
দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেড সেঞ্চুরি করে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন। তবে বিশাল ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২৯৬ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নেন কাগিসো রাবাদা।