জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে রাজশাহী বিভাগ। ম্যাচ শেষে গতকাল সকালে বিমানযোগে রাজশাহীতে ফেরেন দলের ক্রিকেটাররা।
এর আগের রাতে ক্রিকেটারদের ৫৪টি লাগেজ ও সরঞ্জাম নিয়ে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিসিবির একটি কাভার্ডভ্যান। পথে নাটোরের হরিশপুর বাইপাস এলাকায় ওই কাভার্ডভ্যান আটকে ক্রিকেটারদের লাগেজ লুটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারটি লাগেজ উদ্ধার হয়েছে। তবে তিন লাখ টাকা নগদসহ বেশ কিছু মূল্যবান সামগ্রী এখনো উদ্ধার হয়নি।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেটার মহর শেখ। তার ভাষ্য, মোটরসাইকেলে করে আসা পাঁচজনের একটি দল কাভার্ডভ্যানটি অনুসরণ করে এসে পথ আটকে লাগেজ ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একজন এখনো পলাতক।
মহর বলেন, ‘ডাকাতি হয়েছে আসলে। ওরা পাঁচ-ছয়জনের একটা গ্রুপ ছিল। বাইক নিয়ে কাভার্ডভ্যানটা ফলো করতে করতে এসে নাটোর যেটা হরিশপুর বাইপাস বলে, ওখানে কাভার্ডভ্যান আটকায় আর জিনিসগুলো ছিনিয়ে নেয়। মিসিং ছিল যেগুলো, তার মধ্যে অলরেডি চারটা উদ্ধার হয়েছে আর বাকি এখনো চারটার মতো মিসিং আছে। তার মধ্যে আমারটাও মিসিং আছে।’
কী কী সামগ্রী খোয়া গেছে, জানতে চাইলে মহর বলেন, ‘আমাদের ম্যাসাজ বেড ছিল ওর সঙ্গে। তারপরে ব্লেন্ডার ছিল। ব্যাগের মধ্যে ক্যাশ-ট্যাশ, আইফোন সব ছিল।’
উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মোটামুটি ইউএস ডলার আর আইফোনটা উদ্ধার করা গেছে। যে তিন লাখ টাকা ছিল, সেটা ব্যাগে পাওয়া যায়নি। আর আমার যে ব্যাগটা ছিল, আমার ব্যাগের মধ্যে স্পিকার, এয়ারপডস আরও অনেক কিছুই ছিল। এটা পাওয়া যায়নি এখন পর্যন্ত। যে ক্রিমিনালগুলো ধরছে, ওদের পরনে আমার প্যান্ট ছিল। মানে আমার ব্যাগ খুলে ওরা জিনিসপত্র ব্যবহার করছে। এখন পর্যন্ত ওগুলো উদ্ধার হয়নি।’
মহর জানান, এ ঘটনায় প্রথমে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। পরে সেটিকে মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটা জিডি ছিল আমাদের, ওটাই কেস হয়েছে আর কি। এ পর্যন্তই আপডেট।’
কার কার মালামাল উদ্ধার হয়েছে, তা জানিয়ে মহর বলেন, ‘মেহরাব হোসেনের তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়নি। ওর আইফোন, পাসপোর্ট আর যেগুলো ছিল ডলার, ওগুলো পাওয়া গেছে। আর আমাদের যে ম্যাসাজম্যান ছিল, ওর ম্যাসাজ বেডটা পাওয়া গেছে। বাকি ওর দুইটা রানিং শু পাওয়া যায়নি। তারপরে ব্লেন্ডার পাওয়া যায়নি। আর আমার ব্যাগে যা যা ছিল, ওগুলো কোনো কিছুই পাওয়া যায়নি। আমাদের ওয়ালিদের লাগেজ ছিল, ওর ব্যাগে কাপড়চোপড় ছিল, ওগুলো আর কি পাওয়া যায়নি।’
এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া মালামালের হিসাব জানিয়ে তিনি বলেন, ‘চারজনের চুরি হয়েছিল, দুইজনেরটা পাওয়া গেছে। মানে উদ্ধার হয়েছে। (উদ্ধার) হাফ হয়েছে আর কি।’
পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা গেলে বাকি মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে অগ্রগতি হতে পারে বলে আশা করছেন মহর। তিনি বলেন, ‘এখন ওনারা যে কেস হয়েছে, এখন ওনারা রিমান্ডে নিয়ে আর কি জিজ্ঞাসাবাদ করবে। চারজনকে ধরছে, একজন পলাতক আছে। ওকে ধরলে হয়তো সবকিছু পাওয়া যাবে।’
টিআই