নিউইয়র্কের কুইন্সের ফরেস্ট হিলস এলাকায় স্পাইডার-ম্যানের নামে একটি সড়কের সম্মানসূচক নামকরণ করা হয়েছে। জনপ্রিয় সুপারহিরো পিটার পার্কারের কাল্পনিক বাড়ির ঠিকানার সঙ্গে সম্পর্কিত ইনগ্রাম স্ট্রিট ও আসকান অ্যাভিনিউর সংযোগস্থলে ‘স্পাইডার-ম্যান ওয়ে’ লেখা একটি ফলক স্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) আয়োজিত ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে সুপারহিরোটির ভক্ত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিকস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে কুইন্সের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
কমিকসের কাহিনিতে স্পাইডার-ম্যানের আসল পরিচয় পিটার পার্কার। নিউইয়র্কের কুইন্সের ফরেস্ট হিলস এলাকায় তাঁর বসবাসের কথা উল্লেখ রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্রকাশিত কমিকসে পিটার পার্কারের ঠিকানা হিসেবে ২০ ইনগ্রাম স্ট্রিটের উল্লেখ করা হয়। সেই কাল্পনিক ঠিকানার সূত্র ধরেই এলাকাটির সঙ্গে চরিত্রটির সম্পর্ক আরও পরিচিতি পায়।
তবে ইনগ্রাম স্ট্রিটের পুরো নাম পরিবর্তন করা হয়নি। সড়কের নির্দিষ্ট সংযোগস্থলে ‘স্পাইডার-ম্যান ওয়ে’ নামে সম্মানসূচক নাম যুক্ত করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাসেম্বলিম্যান স্যাম বার্গার অনুষ্ঠানে স্পাইডার-ম্যানের সঙ্গে কুইন্স ও ফরেস্ট হিলসের সম্পর্ক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরেই স্পাইডার-ম্যানের পরিচয়ের সঙ্গে কুইন্স, বিশেষ করে ফরেস্ট হিলস, ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানো নায়কদের মতো হতে চাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৬২ সালে ‘অ্যামেজিং ফ্যান্টাসি’ কমিকসের ১৫তম সংখ্যায় স্পাইডার-ম্যানের আত্মপ্রকাশ ঘটে। লেখক স্ট্যান লি ও শিল্পী স্টিভ ডিটকোর তৈরি এই চরিত্র পরে মার্ভেল কমিকসের অন্যতম জনপ্রিয় সুপারহিরো হয়ে ওঠে।
স্পাইডার-ম্যানের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ পিটার পার্কারের সাধারণ জীবনযাপন, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং ব্যক্তিগত দায়িত্বের সঙ্গে অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সমন্বয়। একজন সাধারণ তরুণ হয়েও অন্যদের রক্ষায় এগিয়ে আসার বৈশিষ্ট্য তাঁকে বহু প্রজন্মের পাঠকের কাছে পরিচিত করে তুলেছে।
‘স্পাইডার-ম্যান ওয়ে’ নামের ফলকটি বাস্তবের একটি এলাকার সঙ্গে কাল্পনিক সুপারহিরোর সম্পর্ককে প্রতীকী স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে কমিকসের একটি পরিচিত ঠিকানা ভক্তদের কাছে নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
এসএস