হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও পানির প্রবল স্রোতে প্রতিবছর সংরক্ষিত পাহাড় ও চা বাগানের টিলা ভেঙে নদী-ছড়ায় বিলীন হচ্ছে।
এতে চা বাগান, সড়ক, সেতু ও জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভাঙন রোধে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাহাড় ও চা বাগানের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত ছোট-বড় ছড়াগুলো দীর্ঘদিন ধরে বালু ও পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা ও পাহাড়ি ঢলের সময় পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে না। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই পানির প্রবল স্রোত সৃষ্টি হয়ে পাহাড়ের পাড় ও চা বাগানের টিলা ধসে পড়ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক, সেতু ও বসতবাড়ি।
ইতোমধ্যে উপজেলার সাতছড়ি টিপড়া আদিবাসী পল্লি, বিভিন্ন সেতু এবং ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের কয়েকটি অংশ ভাঙনের কবলে পড়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় টিলা ধসে ছড়ায় মিশে গেছে।
সুরমা চা বাগানের টিংকু সাঁওতাল বলেন, এ বছর পাহাড়ি ঢলে ২০ নম্বর নির্মাণাধীন সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি পানির স্রোতে ধসে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কিবরিয়াবাদ সেকশনে বড় বড় টিলা ভেঙে ছড়ায় মিশে গেছে। এসব ভাঙন রোধে সরকার বা বাগান কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ছড়াগুলো খনন করে গাছ লাগানো হলে মাটির ধস অনেকটা রোধ করা সম্ভব।
সাতছড়ি টিপড়া আদিবাসী পল্লির হেডম্যান চিত্ররঞ্জন দেববর্মা জানান, ছড়া খনন না করায় টিপড়া বস্তির পাঁচটি বসতবাড়ি ছড়ায় বিলীন হয়ে গেছে। একটি ছোট ফুটব্রিজও পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। ছড়ায় বালু জমে পানি ধারণের ক্ষমতা কমে যাওয়ায় পাহাড় ও ছড়ার পাড় ভেঙে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিকল্পিত ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবছর পাহাড়ধসে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হবে।
চাকলাপুঞ্জি চা বাগানের অমর ভূমিজ বলেন, চাকলাপুঞ্জি ও রামগঙ্গা এলাকার ভাঙন দেখে তাঁরা আতঙ্কিত। প্রতিবছর চা বাগানের বড় বড় টিলা ভেঙে যাচ্ছে। এবার ভাঙনে পুরাতন রামগঙ্গা মহাসড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কের কিছু অংশ পাকা করা হলেও অনেক জায়গায় এখনো ভাঙন রয়েছে।
চন্ডি ছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিমুর রহমান বলেন, বাগানের বিশাল এলাকাজুড়ে টিলা ভেঙে যাচ্ছে। ছড়া খনন করে পানির স্রোত নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পাহাড় ও চা বাগানের ভাঙন রোধ করা সম্ভব। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা অনেক বেশি। এতে চা গাছ, সেতু, সড়ক ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) নেটওয়ার্ক সদস্য ওমাইয়া ফেরদৌস বলেন, পাহাড় ও চা বাগানের টিলা ভেঙে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ক্ষতি রোধে সরকারকে টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় পাহাড়ি এলাকা ও চা বাগানের টিলাগুলো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাবে।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জিএম সরফরাজ বলেন, প্রতিবছর পাহাড় ও নদীভাঙনের ঘটনা তাঁরা প্রত্যক্ষ করছেন। এ বছরও অনেক পাহাড়ি টিলা, চা বাগান ও সেতু ধসে গেছে। কিছু জায়গায় মেরামত করা হয়েছে। কীভাবে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করা যায়, সে বিষয়ে কারিগরি দিক বিবেচনা করা হচ্ছে।
এমএসজি/এসএস