ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
কপ-৩১ সামনে রেখে শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় ২৩ দফা দাবি
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় শ্রমিকদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, জীবিকার সুরক্ষা এবং নীতিনির্ধারণে কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট আটটি ক্ষেত্রের আওতায় ২৩ দফা দাবি তুলে ধরেছে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর জাস্ট ট্রানজিশন বাংলাদেশ (এনএজেটিবি), মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) ও বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন (বিএলএফ)।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার বাংলাদেশ চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু সংকট তৈরিতে শ্রমিকদের দায় সামান্য হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি বহন করতে হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে তীব্র তাপপ্রবাহ, জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি এবং শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের বাদ দিয়ে ন্যায্য জলবায়ু রূপান্তর সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলে শ্রমিকদের, বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের যৌথ উদ্বোধনী বক্তব্যে এনএজেটিবির নির্বাহী সমন্বয়কারী ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন শ্রমিকেরা। অথচ জলবায়ু সংকট তৈরিতে তাদের দায় সামান্য হলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশি বহন করতে হচ্ছে তাদের।

তিনি বলেন, জলবায়ু অর্থায়নের নামে ঋণ কিংবা দাননির্ভর সহায়তার পরিবর্তে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ভিত্তিতে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। শ্রমিকদের জীবন ও জীবিকাসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণেও তাদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, বাংলাদেশের মোট কর্মজীবী মানুষের প্রায় ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। তীব্র তাপপ্রবাহ, কর্মসংস্থান হারানো ও জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতির কারণে এসব শ্রমিক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের আয় ও চাকরির নিরাপত্তা, মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ এবং শোভন কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবারের অবৈতনিক সেবাকাজের বাড়তি চাপ ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নারী শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা প্রয়োজন। কপ-৩১ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে অন্তত একজন নারী শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

এনএজেটিবির সদস্যসচিব ও বিএলএফের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম আশরাফ উদ্দিন বলেন, পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় শ্রমিকেরা মজুরি, কর্মসংস্থান কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ হারালে সেই পরিবর্তন টেকসই হবে না। শ্রমিকদের দাবিগুলো কপ-৩১-এর আলোচনায় তুলে ধরতে সরকার, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকার ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে তাপজনিত অসুস্থতার কারণে প্রায় ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে।

তিনি জানান, ৪৩টি প্রতিষ্ঠানের অবদানে আটটি পরামর্শ সভার মাধ্যমে তৈরি শ্রমিক সনদে সামাজিক সুরক্ষা, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, নীতিনির্ধারণে শ্রমিকদের অংশগ্রহণ এবং অর্থায়নসহ পুনর্দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির দাবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এনএজেটিবির প্রধান সমন্বয়কারী আনোয়ার হোসেন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর শ্রমিকদের সুরক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম অনুষ্ঠানে উত্থাপিত দাবিগুলোকে সময়োপযোগী ও পূর্ণাঙ্গ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, প্রাসঙ্গিক দাবিগুলো জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের জলবায়ু নীতিমালার পাশাপাশি কপ-৩১ এর জন্য বাংলাদেশের অবস্থানপত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে চার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকা জেলার জন্য রয়েছে ২৯৬ মেগাওয়াট। নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অক্সফাম ইন বাংলাদেশের ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যান্ড ন্যাচারাল রিসোর্স রাইটস বিভাগের প্রধান ড. মোহাম্মদ ইমরান হাসান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. শামছুল ইসলাম, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী এবং সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের সভাপতি ও এনএজেটিবির সমন্বয়কারী রাজেকুজ্জামান রতন।

এনএজেটিবির সমন্বয়কারী ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধি শাকিল আখতার চৌধুরী কপ-৩১ সামনে রেখে শ্রমিক সনদের আটটি ক্ষেত্রের আওতায় ২৩টি দাবি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইএলওর বাংলাদেশ কার্যালয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) জাস্ট ট্রানজিশনবিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান আমের সেলিম এবং বিএলএফের প্রোগ্রাম অফিসার জুবায়ের আলম উপস্থিত ছিলেন।

শ্রমিক সনদে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী হিসেবে শ্রমিকদের বিবেচনার পাশাপাশি তাদের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবিকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অংশীদার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

টিআই
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement