ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
পাকিস্তানের সুপার সনিক মিসাইল পরীক্ষায় সাফল্য, ভারতীয় গণমাধ্যম যা ভাবছে
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩০ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানের সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সাফল্য ঘিরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ডিপ্লোম্যাট একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যেখানে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, ভারতের নিরাপত্তা কৌশল এবং সামরিক ভারসাম্যে এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটির ছায়ালিপি নিম্নরূপ:

পাকিস্তান ভারতীয় ভবিষ্যৎ সামরিক কৌশল মোকাবিলার জন্য ফাতাহ-৪ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত পাল্লার সংস্করণের সফল পরীক্ষা করেছে। ভারতের বিমানবাহিনী দূরবর্তী অবস্থান থেকে, শত্রুর আকাশসীমায় প্রবেশ না করেই, আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কৌশল নিতে পারে।

৬ অক্টোবর পাকিস্তান ফাতাহ-৪ স্থল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্ধিত পাল্লার একটি সংস্করণ পরীক্ষা করে। এটি ছিল ক্ষেপণাস্ত্রটির তৃতীয় পরীক্ষা; এর আগের পরীক্ষা হয়েছিল ২০২৬ সালের মে মাসে। এবারের পরীক্ষাটি আগের দুটি পরীক্ষার তুলনায় আলাদা, কারণ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা ৭৫০ কিলোমিটারেরও বেশি বলে জানা গেছে।

ফাতাহ-৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০২৫ সালের ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে তৈরি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে এটি প্রথম প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে ভূমির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, যা রাডারে শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ০.৭ ম্যাক এবং এতে ৩৩০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক ও খণ্ডবিচ্ছুরণধর্মী ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতা রয়েছে।

বর্ধিত পাল্লার সংস্করণটির গঠনেও কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। আগের সংস্করণে ক্ষেপণাস্ত্রের দেহের মাঝামাঝি অংশে ডানা থাকলেও নতুন সংস্করণে ডানাগুলো নিচের দিকে স্থাপন করা হয়েছে বলে দৃশ্যমান ছবিগুলো থেকে ধারণা করা হচ্ছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি আকারেও কিছুটা বড় বলে মনে হয়, যা অতিরিক্ত জ্বালানি ধারণের সুযোগ দিতে পারে। ফলে এর পাল্লা ৭৫০ কিলোমিটারের বেশি হতে পারে। প্রাপ্ত ছবির ভিত্তিতে কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, এর সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার হতে পারে। তবে এই অনুমান এখনো নিশ্চিত নয়।

ফাতাহ-৪-এর বর্ধিত পাল্লার সংস্করণ পরীক্ষার প্রধান কারণগুলো কী?

এর পেছনে বেশ কয়েকটি সম্ভাব্য কৌশলগত কারণ রয়েছে।

১. ভারতের দূরপাল্লার আকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের কৌশল মোকাবিলা

পাকিস্তান সম্ভবত ভারতীয় বিমানবাহিনীর ভবিষ্যৎ দূরপাল্লার হামলার সক্ষমতা মোকাবিলার জন্য ফাতাহ-৪-এর পাল্লা বাড়াচ্ছে।

২০২৫ সালের ৬–৭ মে রাতের সংঘাতে একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, তাদের বিমানবাহিনী ওই সংঘর্ষে একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে। তবে নির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে।

এই অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যৎ সংঘাতে ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের সীমান্তের কাছাকাছি ঘাঁটির পরিবর্তে আরও দূরের বিমানঘাঁটি থেকে অভিযান পরিচালনা করতে পারে—এমন সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ভারতীয় যুদ্ধবিমান পাকিস্তানি আকাশ প্রতিরক্ষা ও আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার বাইরে থেকে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে।

ভারত ইতিমধ্যে ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন সংস্করণটির সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ৮০০ কিলোমিটার বলে কিছু প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে।

এটি পাকিস্তানের জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ পাকিস্তানের তৈমুর (Taimoor) আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রচলিত অস্ত্রভান্ডারের কিছু ব্যবস্থা ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত দূরবর্তী বিমানঘাঁটিগুলোকে হুমকির মুখে ফেলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে ফাতাহ-৪ পাকিস্তানকে ভারতের সীমান্ত থেকে দূরে অবস্থিত বিমানঘাঁটি, রাডার স্থাপনা ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার সম্ভাব্য সক্ষমতা দিতে পারে। তবে প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ভর করবে ক্ষেপণাস্ত্রের যাচাইকৃত পাল্লা, নির্ভুলতা, প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ওপর।

২. ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও মহানগর এলাকাকে পাল্লার আওতায় আনা

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোর অনেকগুলো পাকিস্তান সীমান্ত থেকে বেশ দূরে অবস্থিত। অন্যদিকে পাকিস্তানের কয়েকটি বড় শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্র ভারতের সীমান্তের তুলনামূলকভাবে কাছে।

এই ভৌগোলিক পার্থক্য প্রচলিত অস্ত্রের মাধ্যমে সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একটি অসমতা তৈরি করতে পারে।

ফাতাহ-৪-এর বর্ধিত পাল্লা পাকিস্তানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে আরও দূর পর্যন্ত বিস্তৃত করতে পারে। প্রায় ১,০০০ কিলোমিটারের সম্ভাব্য পাল্লা সত্য হলে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র মুম্বাইও পাকিস্তানের কিছু সম্ভাব্য নিক্ষেপস্থল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় আসতে পারে। তবে এটি নির্ভর করবে প্রকৃত পাল্লা, নিক্ষেপস্থল এবং ক্ষেপণাস্ত্রের উড্ডয়নপথের ওপর।

এর ফলে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে প্রচলিত অস্ত্রের মাধ্যমে পাল্টা আঘাতের হুমকি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সক্ষম হতে পারে।

৩. ভারতের প্রচলিত পাল্টা হামলা নিরুৎসাহিত করা

এই ক্ষেপণাস্ত্রের আরেকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

ধারণাটি হলো, পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও অবকাঠামোতে ভারতের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে পাকিস্তানও ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে। এতে ভারতের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সম্ভাব্য পাল্টা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হতে পারে।

মুম্বাইয়ের মতো একটি বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হলে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও জনমনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এর গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

তবে এমন হুমকি যে ভারতকে নিশ্চিতভাবে হামলা থেকে বিরত রাখবে, তা বলা যায় না। একইভাবে, বড় শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।

সারসংক্ষেপ

ফাতাহ-৪ ইর পরীক্ষার পেছনে পাকিস্তানের সম্ভাব্য কৌশলগত লক্ষ্যগুলো হলো:

ভারতের দূরপাল্লার আকাশভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতার মোকাবিলা করা। পাকিস্তানের সীমান্ত থেকে দূরে অবস্থিত ভারতীয় সামরিক স্থাপনাগুলোকে সম্ভাব্য পাল্লার মধ্যে আনা। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা আঘাতের সম্ভাবনা তৈরি করা।

প্রচলিত অস্ত্রের মাধ্যমে প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে ভবিষ্যৎ সংঘাতে ভারতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা।

ফাতাহ-৪-এর বর্ধিত পাল্লা শুধু একটি ক্ষেপণাস্ত্রের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়; এটি পাকিস্তানের দূরপাল্লার প্রচলিত হামলার সক্ষমতা ও ভারতের সঙ্গে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে এর প্রকৃত পাল্লা, কার্যকারিতা এবং ভারতের সামরিক পরিকল্পনার ওপর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও যাচাইকৃত তথ্য প্রয়োজন।

৩. ভারতের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করার সক্ষমতা অর্জন

‘অপারেশন সিঁদুর’-পরবর্তী সময়ে ভারতীয় সামরিক বাহিনী আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এস-৪০০ ব্যবস্থা। পাশাপাশি ভারত ‘কুশা’ নামের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতকারী ব্যবস্থা পরীক্ষা করেছে এবং ‘মিশন সুদর্শন চক্র’-এর আওতায় বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

এই উদ্যোগগুলোর লক্ষ্য হলো একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা, যা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য আকাশপথে আসা হুমকি শনাক্ত এবং প্রতিহত করতে সক্ষম হবে।

এ ধরনের প্রতিরক্ষা বলয় অতিক্রম করে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পাকিস্তানের এমন অস্ত্রব্যবস্থার প্রয়োজন হতে পারে, যেগুলো রাডারে শনাক্ত হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে।

ফাতাহ-৪-এর ভূমির কাছাকাছি দিয়ে উড়ে যাওয়ার সক্ষমতা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। নিচু দিয়ে উড্ডয়ন করলে ভূপ্রকৃতির কারণে কিছু রাডারের শনাক্তকরণ ক্ষমতা সীমিত হতে পারে। তবে এতে ক্ষেপণাস্ত্রটি রাডারে ধরা পড়বে না বা ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতভাবে ভেদ করতে পারবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

এই সক্ষমতা পাকিস্তানকে ভারতের সামরিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে দূরপাল্লার প্রচলিত হামলার সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে, পাকিস্তানের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে ভারতের জন্য পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আগাম সামরিক হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও জটিল হতে পারে।

৪. অস্ত্র প্রতিযোগিতা নয়, প্রচলিত সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা জোরদার করা

পাকিস্তানের সরকারি নীতিতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা এড়ানোর কথা বলা হয়েছে। দেশটির বক্তব্য অনুযায়ী, ফাতাহ-৪-এর বর্ধিত পাল্লার সংস্করণ তৈরির চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো ভারতের বিপরীতে পাকিস্তানের প্রচলিত সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করা।

এই ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ২০২৫ সালের মে মাসে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একাধিক স্থানে ভারতের হামলার ঘটনাকে ইসলামাবাদ তার সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচনা করে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ওই হামলাগুলোকে ‘উসকানিবিহীন’ বলে অভিহিত করেছিল; এটি পাকিস্তানের সরকারি অবস্থান।

ওই সংঘাতের পর পাকিস্তান প্রচলিত ওয়ারহেড বহনকারী ফাতাহ-৪ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মতো অস্ত্রব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও জোরদার করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

এখানে পাকিস্তানের উদ্দেশ্য শুধু ভারতের সামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা নয়; বরং সম্ভাব্য সংঘাতে ভারতের সামরিক পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর প্রভাব বিস্তার করাও।

বিশেষ করে, পাকিস্তান যদি দূরবর্তী সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন করে, তাহলে ভারতকে যেকোনো আগাম হামলার সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও ঝুঁকি বিবেচনা করতে হবে।

একটি ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা তৈরি করলেই যে সামরিক প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, এমন নয়। তবে এ ধরনের অস্ত্রের পেছনে থাকা উদ্দেশ্য, সামরিক প্রস্তুতি এবং প্রতিপক্ষের কাছে দেওয়া কৌশলগত বার্তাও গুরুত্বপূর্ণ।

ফাতাহ-৪ ক্ষেপণাস্ত্রের প্রবর্তন এবং এর ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে ইসলামাবাদ নয়াদিল্লিকে এই বার্তা দিতে চাইছে যে, আগের পরিস্থিতি আর নেই। পাকিস্তানের প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এখন ভারতের অভ্যন্তরের অনেক দূরে অবস্থিত সামরিক স্থাপনাগুলোর জন্যও সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে। ফলে ভারতের মূল ভূখণ্ডের গভীরে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটিগুলোও আর সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে বিবেচিত হতে পারে না।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই ফাতাহ-৪-এর বর্ধিত পাল্লার সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে বলে এই বিশ্লেষণে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও আধুনিক যুদ্ধে ভূখণ্ডগত বিজয়ের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিপক্ষের এমন সামরিক দৃষ্টিভঙ্গির মুখে অন্য পক্ষের জন্য যথাযথ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে।

এই দৃষ্টিকোণ থেকে, ফাতাহ-৪ পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করা এবং দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া একটি পদক্ষেপ 

সূত্র: দ্য ডিপ্লোম্যাট
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement