ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
লাল-সবুজ জার্সিতে বদলেছে দল, বদলায়নি প্রত্যাশা
✎ শাহরিয়ার স্বপ্নীল
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:০৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
X
Advertisement

প্রতীকী ছবি

ক্রিকেট বাংলাদেশের মানুষের কাছে কেবল একটি খেলা নয়; এটি জাতীয় পরিচয়, আবেগ ও সম্মিলিত গর্বেরও অংশ। কখনো শেষ বলে জয়, কখনো বড় দলের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত সাফল্য, আবার কখনো প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে রয়েছে উত্থান-পতনের নানা অধ্যায়। 

তবে এই দীর্ঘ যাত্রায় কয়েকটি প্রজন্ম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফিজয়ী দল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের দরজা খুলে দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ দলকে এনে দিয়েছিলেন আত্মবিশ্বাস ও ধারাবাহিকতা। আর এখন নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের সামনে চ্যালেঞ্জ, সেই অর্জনকে আরও এগিয়ে নেওয়ার।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই বিবর্তন তাই শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের ইতিহাস নয়; এটি এক প্রজন্মের অর্জন থেকে আরেক প্রজন্মের দায়িত্ব গ্রহণের গল্প।

১৯৯৭: যে জয় বদলে দিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে ১৯৯৭ সালের ১২ ও ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফির ফাইনাল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। আকরাম খানের নেতৃত্বে এবং গর্ডন গ্রিনিজের কোচিংয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ কেনিয়া প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ২৪১ রান সংগ্রহ করে। বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের লক্ষ্য পুনর্নির্ধারণ করা হয় ২৫ ওভারে ১৬৬ রান।

চাপের মুখে শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে বাংলাদেশ জয় পায় দুই উইকেটে। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে দল। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের সম্ভাবনাও নতুনভাবে আলোচনায় আসে।

আইসিসি ট্রফির সেই সাফল্যের গুরুত্ব বোঝার জন্য তৎকালীন বাস্তবতা মনে রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ তখনো টেস্ট খেলার মর্যাদা পায়নি। বিশ্ব ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগও ছিল সীমিত। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ছিল দেশের ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পর পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশ আরও বড় চমক দেখায়। ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পথেও আগের সাফল্যগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সেই দলের ক্রিকেটারদের অবদানও সময়ের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন রূপ পেয়েছে। অধিনায়ক আকরাম খান ক্রিকেট প্রশাসনে যুক্ত হয়েছেন। আমিনুল ইসলাম বুলবুল খেলোয়াড়ি জীবন শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কাজ করেছেন এবং পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। মিনহাজুল আবেদীন নান্নু দীর্ঘদিন জাতীয় দলের নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন। আতাহার আলী খান আন্তর্জাতিক ধারাভাষ্যে পরিচিত মুখ হয়েছেন। খালেদ মাহমুদ সুজন কোচিং ও ক্রিকেট ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়েছেন। খালেদ মাসুদ পাইলটও ক্রিকেট বিশ্লেষণ ও সংগঠনের কাজে ভূমিকা রেখেছেন।

মোহাম্মদ রফিক, যিনি বাঁহাতি স্পিনে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে রাখতেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের শুরুর দিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাঁর মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের স্পিনারদের জন্যও প্রেরণার উৎস।

এই ক্রিকেটারদের সবাই একইভাবে আলোচনায় নেই। কেউ প্রশাসনে, কেউ কোচিংয়ে, কেউ ধারাভাষ্যে; আবার কেউ ক্রিকেটের দৃশ্যমান পরিসর থেকে দূরে। কিন্তু তাঁদের সম্মিলিত অর্জন বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি স্থায়ী ভিত্তি তৈরি করেছে।

পঞ্চপাণ্ডব: আত্মবিশ্বাসী অধ্যায়

বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরবর্তী বড় রূপান্তরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নাম। তাঁদের একসঙ্গে ‘পঞ্চপাণ্ডব’ বলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের নেতৃত্ব, ব্যাটিং, বোলিং ও অলরাউন্ড নৈপুণ্যে তাঁদের অবদান বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে।

এই পাঁচ ক্রিকেটারের প্রত্যেকের ভূমিকা ছিল আলাদা। মাশরাফি ছিলেন নেতৃত্ব ও লড়াকু মানসিকতার প্রতীক। সাকিব ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য দেখিয়েছেন। তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বাংলাদেশের ইনিংসের ভিত গড়েছে। মুশফিকুরের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং দলকে নির্ভরতা দিয়েছে। আর মাহমুদউল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপ সামলে ম্যাচ শেষ করার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ১৫ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন আত্মবিশ্বাসের জন্ম দেয়। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠাও ছিল বড় অর্জন। এশিয়া কাপের ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৮ সালের আসরে ফাইনালে খেলা দলটির ধারাবাহিক উন্নতির আরেকটি প্রমাণ।

এর বাইরে ভারত, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় এবং টেস্ট ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে স্মরণীয় সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। তবে এসব অর্জনকে কেবল পাঁচ ক্রিকেটারের কৃতিত্ব হিসেবে দেখলে পুরো ছবিটি পাওয়া যাবে না। তাঁদের পাশাপাশি অবদান রেখেছেন অন্য ব্যাটার, বোলার, কোচ এবং দলের সহায়ক কর্মীরাও। পঞ্চপাণ্ডবের বিশেষত্ব ছিল, তাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যেও দলের মূল শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছিলেন।

বদলে যাওয়া ভূমিকা

সময় ও বয়সের সঙ্গে ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার বদলায়। পঞ্চপাণ্ডবের ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁদের কেউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন, কেউ নির্দিষ্ট ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন, আবার কারও ভবিষ্যৎ নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

মাশরাফি বিন মুর্তজা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পর আর নিয়মিত খেলোয়াড়ি জীবনে নেই। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাঁর নেতৃত্ব ও লড়াইয়ের স্মৃতি এখনো আলোচিত। বিশেষ করে সীমিত সম্পদ নিয়েও দলকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

সাকিব আল হাসানের ক্যারিয়ার বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম সমৃদ্ধ অধ্যায়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অলরাউন্ড নৈপুণ্য, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং বিভিন্ন ফরম্যাটে পারফরম্যান্স তাঁকে বিশেষ অবস্থানে রেখেছে। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও পরবর্তী পরিস্থিতি তাঁর ক্যারিয়ারকে জটিল করেছে। তাঁর আন্তর্জাতিক প্রত্যাবর্তন বা ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে আলোচনা থাকলেও নিশ্চিত সিদ্ধান্ত ছাড়া তা নিয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সমীচীন নয়।

তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়নি। খেলোয়াড় হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতে ক্রিকেট প্রশাসন কিংবা বিশ্লেষণধর্মী কাজে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করেছে। ২০২৬ সালে বিসিবির সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ সেই পরিবর্তনেরই একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আগের বোর্ড ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের পর তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দিয়েছিল এই কমিটিকে।

মুশফিকুর রহিমের ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে ফরম্যাটে। ২০২৫ সালের মার্চে ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি টেস্ট ক্রিকেটে মনোযোগ দেন। ২০২৬ সালেও তাঁকে টেস্ট দলে দেখা গেছে। অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাটিং করার সামর্থ্যের কারণে দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেটে তাঁর উপস্থিতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, মিডল অর্ডারে দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অবদান বাংলাদেশের সীমিত ওভারের ক্রিকেটে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এই পাঁচ ক্রিকেটারের বর্তমান অবস্থান একদিকে যেমন একটি যুগের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে, অন্যদিকে প্রশ্ন তোলে তাঁদের জায়গা কতটা পূরণ করতে পেরেছে নতুন প্রজন্ম?

নতুন প্রজন্মের সামনে বড় পরীক্ষা

পঞ্চপাণ্ডব-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেতৃত্ব ও ধারাবাহিকতার প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সময়ে মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন ও তৌহিদ হৃদয়ের মতো ক্রিকেটারদের ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের দক্ষতা ও খেলার ধরন আলাদা। ফলে তাঁদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলীয় পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই দলের জন্য কার্যকর ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশেষ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে তাঁর অলরাউন্ড দক্ষতা বাংলাদেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে অবদান রাখা এবং অফ-স্পিনে প্রতিপক্ষের রান আটকে দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সদস্যে পরিণত করেছে। ভবিষ্যতে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনের সম্ভাবনাও তাঁর ক্ষেত্রে আলোচনায় আসতে পারে। তবে নেতৃত্বের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে অভিজ্ঞতা, ধারাবাহিকতা ও দলের প্রয়োজনের ওপর।

মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের অন্যতম পরিচিত মুখ। তাঁর কাটার ও গতির পরিবর্তন সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বিশেষ কার্যকর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা তাঁকে ভিন্ন কন্ডিশনে বোলিং করার সুযোগ দিয়েছে। তবে তাঁর সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে ফিটনেস, কাজের চাপ ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্করণের জন্য উপযুক্ত প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের উত্থান বাংলাদেশের ক্রিকেটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মানসম্পন্ন লেগ স্পিনারের অভাব বাংলাদেশের আলোচনায় ছিল। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়ে রিশাদ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হন। এই পারফরম্যান্স তাঁকে নতুনভাবে পরিচিত করে তোলে। তবে একটি টুর্নামেন্টের সাফল্যকে দীর্ঘমেয়াদি অর্জনে রূপ দিতে হলে তাঁকে ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বোলিংয়ের দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।

তৌহিদ হৃদয় সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মিডল অর্ডারে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। ইনিংসের মাঝের ওভারে রান তোলা, চাপের মধ্যে উইকেট ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করার ক্ষমতা তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও পরিণত হওয়ার জন্য তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে ধারাবাহিকতা এবং বড় ম্যাচে দায়িত্বশীল ভূমিকা ধরে রাখা।

তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কেবল এই চার ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করে না। নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদসহ অন্য ক্রিকেটারদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তরুণদের সুযোগ দেওয়া, ঘরোয়া ক্রিকেটের মান বাড়ানো এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা নিশ্চিত করাই হবে ভবিষ্যৎ সাফল্যের অন্যতম শর্ত।

ধারাবাহিকতা ও পরিকল্পনা

বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে বড় অর্জনের অভাব নেই। কিন্তু সেই অর্জনকে নিয়মিত সাফল্যে রূপ দেওয়ার চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। বড় দলের বিপক্ষে বিচ্ছিন্ন জয় যেমন সমর্থকদের আশাবাদী করে, তেমনি ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের অভাব নতুন প্রশ্নও তৈরি করে। বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপের মতো প্রতিযোগিতায় ভালো করার জন্য শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সুসংগঠিত প্রস্তুতি, শক্তিশালী ঘরোয়া কাঠামো, দক্ষ কোচিং এবং খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি।

ক্রিকেট প্রশাসনের স্থিতিশীলতাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিসিবির পরিচালনা, নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হলে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হয়। একই সঙ্গে বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, নারী ক্রিকেট, পেস বোলিং ও স্পিন উন্নয়ন এবং মাঠের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর মতো বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

১৯৯৭ সালের দল দেখিয়েছিল, সুযোগ পেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করতে পারে। পঞ্চপাণ্ডবের প্রজন্ম দেখিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অভিজ্ঞতা ও দলীয় সমন্বয় বজায় রাখা গেলে বড় মঞ্চেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সম্ভব। নতুন প্রজন্মের সামনে এখন সেই দুই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরবর্তী অধ্যায় তাই শুধু নতুন তারকা তৈরির অপেক্ষা নয়; বরং এমন একটি কাঠামো গড়ে তোলার প্রশ্ন, যেখানে একজন খেলোয়াড়ের সাফল্য ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো দলের শক্তিতে পরিণত হবে।

কুয়ালালামপুরের সেই শেষ বল থেকে আজকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বাংলাদেশের যাত্রা দীর্ঘ এবং পরিবর্তনশীল। এক প্রজন্ম পথ তৈরি করেছে, আরেক প্রজন্ম সেই পথে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছে। এখন নতুনদের দায়িত্ব, অর্জিত ভিত্তিকে আরও মজবুত করে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে নিয়মিত সাফল্যের পথে এগিয়ে নেওয়া।

এসএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement