কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরানের দেওয়া সাত শর্তের কয়েকটিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি জানিয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি। তবে ওয়াশিংটনের জবাবকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছে তেহরান।
কোন কোন শর্তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দিয়েছে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার (১১ অক্টোবর) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে রেজায়ি জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু শর্ত মেনে নিলেও কয়েকটি বিষয়ে অবস্থান এখনো অস্পষ্ট।
এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে ওয়াশিংটনকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় রেজায়ি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাতটি শর্তের কয়েকটিতে সম্মত হয়েছে।
তবে তাদের জবাবকে পর্যাপ্ত বলে মনে করছে না তেহরান। ইরানের কূটনৈতিক অবস্থান বদলে গেছে এবং আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
তবে ঠিক কয়টি শর্তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মতি দিয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানাননি রেজায়ি। কোন শর্তগুলো এখনো অমীমাংসিত, সে বিষয়েও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছিলেন, জুনে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ করতে হবে যুক্তরাষ্ট্রকে। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
গালিবাফের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিল। তবে তেহরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।
আল জাজিরা ও আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও এর আগে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে সম্মত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হলে ষষ্ঠ দিনে প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল শুরু হতে পারে এবং সপ্তম দিনে চূড়ান্ত সমঝোতা নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না এবং আলোচনায় অগ্রগতিও সম্ভব নয়। রেজায়ি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবে যেসব বিষয় অস্পষ্ট রয়েছে, সেগুলোর ব্যাখ্যা এখন ওয়াশিংটনকেই দিতে হবে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে অচলাবস্থা নিরসনে কাতারসহ বিভিন্ন পক্ষ মধ্যস্থতা করছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি