২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। একই সঙ্গে ফ্রান্স ও জার্মানির ভোটারদের নিজ নিজ দেশের রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করেছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘দ্য রেস্ট ইজ পলিটিকস’ নামের একটি রাজনৈতিক আলোচনা অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ২০১৬ সালের গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। তাঁকে জানানো হয়, ওই গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ ছিল। খবর রয়টার্সের।
তবে রাশিয়া কীভাবে ওই গণভোটে হস্তক্ষেপ করেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা-ও প্রকাশ করা হয়নি।
বার্নহামের এই বক্তব্য যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আগের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ২০২০ সালে জনসন বলেছিলেন, ওই গণভোটে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ নেই।
২০১৬ সালের গণভোটে যুক্তরাজ্যের ৫২ শতাংশ ভোটার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে এবং ৪৮ শতাংশ ভোটার থাকার পক্ষে ভোট দেন। ওই ফলাফলের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ, যা ‘ব্রেক্সিট’ নামে পরিচিত, দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে।
ইউরোপের অন্য দেশগুলোকে সতর্কবার্তা
বার্নহাম বলেন, ইউরোপের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর ভোটারদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টা সম্পর্কে আরও সচেতন করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, জার্মানি ও ফ্রান্সের ভোটারদেরও বুঝতে হবে, রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র অন্য দেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতে পারে।
এর আগে ২০২০ সালে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তাবিষয়ক কমিটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০১৬ সালের গণভোটে রাশিয়ার সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ সরকার পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করেনি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৪ সালে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটেও রাশিয়া প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে রাশিয়া ব্রেক্সিট গণভোটে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বার্নহামের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ২০১৬ সালের গণভোটে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কথিত হস্তক্ষেপের ধরন, প্রমাণ এবং গণভোটের ফলাফলে এর কোনো প্রভাব পড়েছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: রয়টার্স / এফএস