ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
কান্নায় শেষ মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায়, গোল-অ্যাসিস্টে শেষ নাচ
✎ অবজারভার প্রতিবেদক
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

একটি ম্যাচ শেষ হয়েছে। কিন্তু শেষ হয়েছে তার চেয়েও বড় একটি যুগ।বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ হলো ২১ বছরের আন্তর্জাতিক পথচলা; ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে এক গোল, দুই গোলের সহায়তা; শেষ বাঁশিতে কান্না মেসির, কান্না গ্যালারিতেও। 

বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতে আর্জেন্টিনা ও বেনিনের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল নিয়মরক্ষার প্রীতি ম্যাচ। কিন্তু ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল একটি জাতির সবচেয়ে প্রিয় ফুটবলারের বিদায় অনুষ্ঠান। ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে আর্জেন্টিনা ৩-০ গোলে হারাল বেনিনকে। আর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচেও লিওনেল মেসি রেখে গেলেন নিজের ছাপ একটি গোল এবং দুটি গোলের সহায়তা।

মেসির আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হলো ২০৮ ম্যাচে ১২৬ গোল নিয়ে। দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা দুই রেকর্ডই এখন তাঁর দখলে। বিশ্বকাপ, দুটি কোপা আমেরিকা ও ফাইনালিসিমার মতো শিরোপায় নেতৃত্ব দেওয়া সেই মানুষটি এবার জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখলেন। কিন্তু সংখ্যাগুলো এই রাতের আবেগের কাছে ছিল খুবই ছোট।

স্টেডিয়ামে যাওয়ার পথেই চোখে পানি

ম্যাচের অনেক আগেই বুয়েনস আয়ার্সের রাস্তায় নেমে এসেছিলেন হাজারো মানুষ। জাতীয় দলের বাস যখন স্টেডিয়ামের দিকে এগোচ্ছিল, রাস্তার দুই পাশে সমর্থকেরা দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রিয় অধিনায়ককে শেষবারের মতো দেখার জন্য। বাসের জানালা দিয়ে মেসিকে চোখের পানি মুছতে দেখা যায়।

স্টেডিয়ামে প্রবেশের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও চিরো। গ্যালারিতে ছিলেন স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও মা সেলিয়া কুচিত্তিনি। জাতীয় সংগীতের সময়ও মেসিকে আবেগ সামলাতে দেখা যায়। 
মাঠের চারপাশে তখন শুধু আর্জেন্টিনার নীল-সাদা পতাকা। হাজারো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত। কেউ কাঁদছেন, কেউ ছবি তুলছেন, কেউ শুধু তাকিয়ে আছেন শেষবারের মতো মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে দেখার জন্য।


‘ধন্যবাদ’ লেখা ১০ নম্বর

ম্যাচ শুরুর আগে মাঠে বিছিয়ে দেওয়া হয় বিশাল আর্জেন্টিনা জার্সি। সেখানে মেসির ১০ নম্বরের ওপরে লেখা ছিল ‘ধন্যবাদ’।

রোজারিওতেও একইভাবে মেসির ১০ নম্বর জার্সি উন্মোচন করা হয়। তাঁর জন্মশহর থেকেও ছিল একই বার্তা , ধন্যবাদ, লিও। 
আর মনুমেন্টালের দর্শকেরা যেন আগেই ঠিক করে রেখেছিলেন, এই রাতটি কীভাবে স্মরণীয় করে রাখবেন।

খেলার ১০ মিনিট পূর্ণ হওয়ার পর ম্যাচ থামিয়ে দেওয়া হয়। মেসির ১০ নম্বর জার্সির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় তাঁকে। করতালি, আতশবাজি আর ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে মনুমেন্টাল। 
বেনিনের অধিনায়ক সেসি দ'আলমেইদা ম্যাচের আগে মেসির হাতে তুলে দেন উপহার ও চিঠি। প্রতিপক্ষের কাছ থেকেও এলো কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধার শেষ বার্তা। 



মেসির বিদায়ী ম্যাচ হলেও শুরুটা ছিল অপেক্ষার। প্রথমার্ধে কোনো গোল হয়নি। আর্জেন্টিনা আক্রমণ করেছে, মেসিকে ঘিরে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে, কিন্তু বেনিনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। গ্যালারির মানুষ অপেক্ষা করছিলেন একটি বিশেষ মুহূর্তের জন্য। তাঁরা চেয়েছিলেন, শেষ ম্যাচে মেসির কাছ থেকে শেষবারের মতো একটি গোল। শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষা পূরণ হয়েছে। ওতামেন্দির গোলে প্রথম উপহার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মেসির পা থেকে এল প্রথম উপহার। মেসির নেওয়া কর্নার থেকে নিকোলাস ওতামেন্দি গোল করেন। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।
গোলটি ছিল আরও আবেগের। কারণ ওতামেন্দিও এই ম্যাচের মাধ্যমে জাতীয় দলকে বিদায় জানাচ্ছিলেন। মেসি ও ওতামেন্দি ১৭ বছর ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে একসঙ্গে খেলেছেন। চারটি বিশ্বকাপেও তাঁরা ছিলেন সতীর্থ। একজনের শেষ ম্যাচে অন্যজনের গোল এর চেয়ে সুন্দর বিদায়ী মুহূর্ত হয়তো আর হতে পারত না।


নিকো পাজের গোলে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত

এরপর এল দ্বিতীয় গোল।এবার মেসির কাছ থেকে গোলের সহায়তা পেলেন নিকো পাজ। তরুণ এই ফুটবলার বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনার ব্যবধান বাড়িয়ে দেন ২-০। গোলের পর পাজ ছুটে যান মেসির দিকে। দুজনের আলিঙ্গন হয়ে ওঠে রাতের অন্যতম প্রতীকী দৃশ্য। একজনের বিদায়। অন্যজনের সামনে দীর্ঘ ভবিষ্যৎ। আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির উত্তরাধিকার নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। নিকো পাজকে সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের একজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।  ৭১ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্ত। তারপর এল রাতের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত মুহূর্ত। আর্জেন্টিনা পেনাল্টি পেল। মেসি বল হাতে নিলেন। পুরো স্টেডিয়াম যেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে। 
বাঁ পায়ের শট।
বল জালে।
গোল।

এটাই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ গোল। ১২৬তম আন্তর্জাতিক গোল। গ্যালারি তখন উন্মত্ত। চারদিকে শুধু মেসির নাম। শেষ ম্যাচে গোল। দুটি গোলের সহায়তা। জয়। কিংবদন্তির জন্য এর চেয়ে নিখুঁত বিদায় যেন আর হতে পারত না। শেষ বাঁশিতে সবাই মেসির চারপাশে। শেষ বাঁশি বাজতেই সতীর্থরা ছুটে আসেন মেসির দিকে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরাও এগিয়ে আসেন। রেফারিও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। মেসিকে ঘিরে তৈরি হয় মানুষের বৃত্ত। সতীর্থদের আলিঙ্গন। প্রতিপক্ষের শ্রদ্ধা। গ্যালারির কান্না। আর মেসির চোখে পানি।

এরপর শুরু হয় আকাশে আলোর প্রদর্শনী। মেসির ছবি ও তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক পথচলার প্রতি কৃতজ্ঞতার বার্তা ফুটে ওঠে আকাশে।

মেসি শেষবারের মতো মাঠ ঘুরে দর্শকদের অভিবাদন জানান। গ্যালারি তখনও খালি হয়নি। হাজারো মানুষ শুধু দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁকে আরেকবার দেখার জন্য।


 মেসির মুখে বাবার কথা

ম্যাচ শেষে কথা বলতে গিয়ে মেসি আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।তাঁর প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসির কথা মনে পড়ে যায়।
মেসি বলেন, এত বড় মুহূর্তেও তাঁর মনে প্রথমেই বাবার কথা এসেছে। দুই দশকের বেশি সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলা তাঁর কাছে শুধু পেশা ছিল না; ছিল জীবনের সবচেয়ে সুন্দর অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। তিনি আরও বলেন, খারাপ সময় এলেও তিনি কখনো লড়াই থামাননি। “সবচেয়ে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়েও আমি কখনো লড়াই থামাইনি, কখনো হাল ছাড়িনি, সবকিছু দিয়ে এখানে থাকতে চেয়েছি।”

এরপর গ্যালারির দিকে তাকিয়ে বলেন,  “আমি তোমাদের সবাইকে ভালোবাসি। তোমাদের সবাইকে মিস করব। আমি আর্জেন্টাইন হতে পেরে গর্বিত।”

আরেকটি কথায় তাঁর বিদায়ের পুরো অর্থ যেন ধরা পড়ে,  “আমি শান্তিতে বিদায় নিচ্ছি। আমি সবকিছু দিয়ে দিয়েছি।”
মেসি বলেন,‘আমি এখান থেকে যেতে চাই না’।
“সত্যি বলতে, আমি যত কথা বলেছি, সম্ভবত এত বেশি কখনো বলিনি। আমি এখান থেকে যেতে চাই না। আমি এই মাঠ ছেড়ে যেতে চাই না।”
গ্যালারি তখন গর্জে ওঠে।
যেন মেসির একটি গোলের পর যে উল্লাস হয়, সেই একই উল্লাস।

মেসি আবার বলেন, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়াই তাঁর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বিষয়গুলোর একটি। 




 নেইমারের আবেগ

মেসির বিদায় শুধু আর্জেন্টিনার বিষয় ছিল না। ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় তারকারাও তাঁর বিদায়ে আবেগী হয়েছেন।

মেসির সাবেক সতীর্থ ও দীর্ঘদিনের বন্ধু নেইমার বলেন, “শুধু আর্জেন্টিনা নয়, ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য পুরো বিশ্ব তোমাকে ধন্যবাদ জানায়।”

নেইমার আরও বলেন, মেসির সঙ্গে খেলা এবং তাঁর সঙ্গে ইতিহাসের অংশ হতে পারা ছিল তাঁর জন্য সম্মানের। 
সাথে বলেন , “তুমি আমাকে ফুটবলকে আরও বেশি ভালোবাসতে শিখিয়েছ।” 

রদ্রিগো দে পল: ‘তুমি আমার ভাই’

মেসির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একজন রদ্রিগো দে পলও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

তিনি বলেন, মেসি তাঁকে শুধু ফুটবলার হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবেও বদলে দিয়েছেন।

“আমি আরও ভালো মানুষ, আরও ভালো ক্রীড়াবিদ, আরও ভালো বাবা এবং আরও ভালো বন্ধু হয়েছি।”

এরপর মেসিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি জানো, তুমি আমার ভাই। তোমার হৃদয় বিশাল।”

দে পলের কাছে মেসির প্রভাব ফুটবলের মাঠের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।


 দি মারিয়া: যে দিনটি কেউ চায়নি

আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি সতীর্থ অ্যাঞ্জেল দি মারিয়ার কাছেও এটি ছিল বেদনাদায়ক দিন।

তিনি বলেন, এই দিনটি কেউ আসুক তা চায়নি।

তবে মেসিকে সুখী ও শান্ত দেখে তিনি খুশি। কারণ মেসি জানেন, তিনি নিজের সবটুকু দিয়ে দিয়েছেন।

দি মারিয়া বলেন, মেসিকে তিনি সারাজীবনের জন্য ধন্যবাদ জানাবেন। 



 মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রেমের গল্প


 মেসির আর্জেন্টিনা অধ্যায় সবসময় এত মসৃণ ছিল না। একসময় দেশের মানুষ তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।বার্সেলোনায় অসাধারণ সাফল্য পেলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় শিরোপা না পাওয়ায় তাঁকে সমালোচনা শুনতে হয়েছে। কেউ কেউ তাঁকে দিয়েগো মারাদোনার সঙ্গে তুলনা করে পিছিয়ে রেখেছেন।

২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে হার।

২০১৫ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার।

টানা ব্যর্থতার পর মেসি একসময় জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন।

কিন্তু গল্প সেখানেই শেষ হয়নি।

২০২১ সালে ব্রাজিলকে হারিয়ে কোপা আমেরিকা জিতল আর্জেন্টিনা।

২০২২ সালে ফাইনালিসিমা জয়।

তারপর কাতার বিশ্বকাপ।

ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ফাইনাল।

বিশ্বকাপ হাতে মেসি।

সেই মুহূর্তে যেন বহু বছরের সব অভিযোগ ধুয়ে গেল।  যে মানুষকে একসময় দেশের প্রতি যথেষ্ট আবেগ না থাকার অভিযোগ শুনতে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সেই মানুষটিই হয়ে উঠলেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে প্রিয় নায়ক। 

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক আন্দ্রেস রাবিনোভিচ মেসির প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, আর্জেন্টিনায় মানুষ প্রায়ই বলে মেসিকে খেলা দেখার সময় জন্মেছে, এটাই সৌভাগ্য।

কারণ কঠিন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও ফুটবল মানুষের জন্য আনন্দের আশ্রয় তৈরি করে। 
দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাবলো ব্রেসিয়ার মতে, মেসির মতো দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের আরেকজন খেলোয়াড় পাওয়া কঠিন।

মারাদোনার মতোই মেসিও এমন একজন, যাঁকে পুনরাবৃত্তি করা সম্ভব নয়—এমনটাই তাঁর মূল্যায়ন। 
ক্রীড়া সমাজবিজ্ঞানী দিয়েগো মুর্জির মতে, মেসিকে খেলতে দেখলে মনে হতো যে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে। 


বিশ্বজুড়ে বিদায়ের প্রতিধ্বনি


মেসির বিদায় নিয়ে শুধু আর্জেন্টিনাতেই আবেগ তৈরি হয়নি। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা তাঁর বিদায়কে একটি যুগের সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন। বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার সাবেক সতীর্থরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। নেইমার বলেছেন, পুরো বিশ্বেরই মেসিকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। আর আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমগুলো গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মেসিকে নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেছে। তাঁর জীবন ও শেষ বিশ্বকাপযাত্রা নিয়ে বিশেষ তথ্যচিত্র প্রকাশ হয়েছে। তাঁর ক্যারিয়ার নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে বিশেষ সংখ্যাও।  বুয়েনস আয়ার্সের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোও নীল-সাদা আলোয় আলোকিত করা হয়। রোজারিওতে বিশাল ১০ নম্বর জার্সি উন্মোচিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে মেসিকে নিয়ে দেয়ালচিত্রও তৈরি হয়েছে। 


মেসির আগে এবং মেসির পরে


আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে দিয়েগো মারাদোনা ছিলেন এক অনন্য অধ্যায়।

এবার সেই ইতিহাসে মেসির অধ্যায়ও শেষ হলো।

তবে মেসির গল্প শুধু ট্রফির নয়।

এটি ব্যর্থতার পর ফিরে আসার গল্প।

এটি সমালোচনার পর নিজেকে প্রমাণ করার গল্প।

এটি বারবার ফাইনালে হেরে আবারও মাঠে ফিরে আসার গল্প।

এটি কান্নার পর হাসার গল্প।

আর সবচেয়ে বড় কথা, এটি একটি দেশের সঙ্গে একজন মানুষের সম্পর্কের গল্প।

একসময় যে দেশ তাঁকে প্রশ্ন করেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই দেশই তাঁকে বুকে তুলে নিয়েছে।


শেষ সংখ্যাগুলো

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ পরিসংখ্যান

২০৮ ম্যাচ।

১২৬ গোল।

দুটি কোপা আমেরিকা।

একটি বিশ্বকাপ।

একটি ফাইনালিসিমা।

বিশ্বকাপের একাধিক ফাইনাল।

আর শেষ ম্যাচে

এক গোল।

দুটি গোলের সহায়তা।

৩-০ জয়।

কিন্তু মেসির উত্তরাধিকার কোনো সংখ্যায় আটকে থাকবে না।


শেষ দৃশ্য


শেষ বাঁশির পর মেসি ধীরে ধীরে মাঠের চারপাশে হাঁটলেন।

গ্যালারিতে তখনও হাজারো মানুষ।

কেউ কাঁদছেন।

কেউ হাততালি দিচ্ছেন।

কেউ তাঁর নাম ধরে চিৎকার করছেন।

মেসি হাত তুললেন।

শেষবারের মতো দর্শকদের দিকে তাকালেন।

তারপর সুড়ঙ্গের দিকে এগিয়ে গেলেন।

একজন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়লেন।

কিন্তু একটি যুগ থেকে গেল।

আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি থেকে মেসি সরে গেলেন। কিন্তু সেই জার্সির সঙ্গে তাঁর নাম এতটাই মিশে গেছে যে, তাঁকে বাদ দিয়ে ১০ নম্বরকে কল্পনা করাই কঠিন।

আজ থেকে আর্জেন্টিনার মানুষ মেসিকে আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখবেন না।

কিন্তু তাঁকে ভুলবেন না।

কারণ কিছু খেলোয়াড় ফুটবল খেলেন।

আর কিছু খেলোয়াড় একটি জাতির স্মৃতির অংশ হয়ে যান।

মেসি সেই দ্বিতীয় দলের মানুষ।

বিদায় লিও।

ধন্যবাদ, অধিনায়ক।

তোমার জন্যই একটি প্রজন্ম বলতে পারবে—আমরা মেসিকে খেলতে দেখেছি। 

  এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement