সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িত ছাত্রদল নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রশাসন ভবন ঘেরাও করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কর্মরত সাংবাদিক এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলছিল।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ সমাবেশে ‘বাহ! ভিসি চমৎকার, সন্ত্রাসীদের পাহারাদার’, ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাংবাদিকের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘ছাত্রদল হামলা করে, প্রশাসন কী করে?’—ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ সময় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘নতুন করে কোনো স্বৈরাচার এখানে প্রতিষ্ঠিত হবে না, এখানে কোনো ভয়ের সংস্কৃতি চালু হবে না। আমাদের প্রশাসন দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরেও তারা সুষ্ঠু কোনো প্রতিশ্রুতি আমাদের দিতে পারেনি, আইনের কোনো ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি আমাদের দিতে পারেনি। তারা অজ্ঞাতনামা মামলার দিকে হাঁটতেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই যারা চিহ্নিত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক।’
রাবি সাংবাদিক সমিতির অর্থ সম্পাদক শাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে মামলা ও ছাত্রদল থেকে তাদের বহিষ্কার করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কাজলা পুলিশ ফাঁড়ি থাকা সত্ত্বেও প্রক্টর বলেন, পুলিশ পালিয়ে গেছে—এটা আমরা মানি না। ক্যাম্পাসে এতগুলো অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রক্টর থাকা সত্ত্বেও কেন তারা এটি সামাল দিতে পারল না, এর জবাব দিতে হবে।’
এ সময় সাংবাদিকতা বিভাগের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও সংবাদ প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, রোববার রাতে ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীবের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। এতে চারজন সাংবাদিকসহ প্রায় ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।