ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
মধুমতির ভাঙনে বিলীন বসতভিটা, আতঙ্কে রাত কাটছে নদীপাড়ের মানুষের
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

মধুমতি কেড়ে নিচ্ছে একর পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। চোখের সামনে ঘরবাড়ি, বাপ দাদার কবর ও ভিটেমাটি নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়ন ও লোহাগড়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মধুমতী নদীপাড়ের শত শত মানুষ। 

বিশেষ করে লোহাগড়া ও কোটাকোল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে গত দুই সপ্তাহে নদীভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। একই সঙ্গে জয়পুর ইউনিয়নের আমডাঙ্গা এলাকাতেও দেখা দিয়েছে ভাঙন। নতুন করে বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে কয়েকশ পরিবারের।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক সময় এসব এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবারের বসতি ছিল। মধুমতি নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, এমনকি বাপ-দাদার কবরও নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। যারা এখনো টিকে আছেন, তারাও জানেন না পরবর্তী ভাঙনে তাদের শেষ আশ্রয়টুকু থাকবে কি না।

নদীপাড়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, মধুমতী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এ বছর ভাঙনের মাত্রা আরও বেড়েছে। মধুমতি নদী ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ স্থানীয় প্রশাসন কে দূষছেন। তারা অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদী ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মধুমতি নদী ভাঙনে লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা, ইসলাম ফকির, আলিম মোল্যা, আহাদ মোল্যা, নজরুল শেখ, আমিনুর আলী, হাই মোল্যা ও রসুল মোল্যাসহ বেশ কয়েকটি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের মির্জা খাঁ, রেজন খাঁ, রহিমন বেগম, খলিল কাজী, শাহিন শিকদার, জাফর খাঁ ও মান্নান মোল্যাসহ অনেক পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

কোটাকোল ইউনিয়নের রায়পাশা গ্রামের রহিমন বেগম বলেন, ‘আমাদের কয়েক বিঘে মাঠের জমি মধুমতি নদীতে চলে গেছে। এর আগে দুইবার বাড়ি ভেঙেছে। অনেক কষ্ট করে নতুন বাড়ি করেছি। এখন সেই বাড়িটিও ভাঙনের মুখে। এভাবে নদীভাঙনে এলাকার মানুষ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।,

লোহাগড়া ইউনিয়নের ছাগলছিড়া গ্রামের মিন্টু মোল্যা বলেন, ‘রাতের বেলায় ভাঙন সবচেয়ে ভয়াবহ হয়। চারদিকে অন্ধকার, কিছুই দেখা যায় না। কোথায় যাব, কী করব, কিছুই বুঝে উঠতে পারি না। আমরা গরীব মানুষ। টাকা পয়সাও নেই। অন্য জায়গায় গিয়ে নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই। নদীভাঙন রোধে কেউ আমাদের খোঁজখবরও রাখে না।,

লোহাগড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস, এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘ইজারাকৃত বালুমহালের নির্ধারিত সীমানার বাইরে কোনো ইজারাদার বালু উত্তোলণ করলে তার ইজারা বাতিল করা হবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারি কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।,

নড়াইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ কুমার সাহা বলেন,‘নিয়ম না মেনে বালু উত্তোলনের কারণে নদী পাড়ের লোকজনের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রকল্পের বাইরে আমরা কাজ করতে পারি না।,

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement