সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়াধীন দূর্গানগর ইউপি অফিস - রাজমান হাটভায়া - মনোহারা (শহীদ বিনয় ভূষণ সিংহ) ৩৩৮০-৪৬৪০ মিটার সড়কের পাকাকরণ কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয়নি। কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট। এরপরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সড়কটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলজিডি অফিস সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির উন্নয়ন ও পাকাকরণ কাজের দায়িত্ব পায় মেসার্স ছোহানী এন্টারপ্রাইজ, সিরাজগঞ্জ। কাজটির চুক্তিমূল্য ধরা হয় ১ কোটি ৪১ লাখ ০১ হাজার ৯৬৩.৪০ টাকা। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ আগস্টের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি শেষ করতে পারেনি।
এতে সড়কটি ব্যবহারকারী কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়ক দিয়ে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটির ভূমিকা রয়েছে।
কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ায় একদিকে যেমন স্থানীয়দের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, অন্যদিকে নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ পড়ে থাকায় সড়কের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় কাদা ও পানি জমে চলাচলের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নকাজ চললেও কাজের গতি সন্তোষজনক নয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। দ্রুত কাজ শেষ হলে এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ হবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা হবে।
তাদের প্রশ্ন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ার পরও কেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতি রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, সরকারি অর্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি প্রকল্পের সুফলও যথাসময়ে পাওয়া যায় না। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি কাজের মানও নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও শুধু নোটিশ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সড়কটির অসম্পূর্ণ কাজ দ্রুত শেষ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে সড়কটির বাকি কাজ সম্পন্ন করবে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন রাজমান হাটভায়া-মনোহারা সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষ।
মেসার্স ছোহানী এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার মো. সুমন মল্লিক বলেন, আগামী অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মধ্যে রাস্তাটির অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হবে। তিনি দ্রুত কাজ শেষ করে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের আশ্বাস দেন।
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ বলেন, ঠিকাদারকে কাজ করার জন্য বারবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রেজাউর রহমানের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এসএ