ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর ফতেহপুরে অস্থায়ী চেকপোস্টে তল্লাশি চলাকালে নিয়ন্ত্রণ হারানো দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় ডিএডি মোহাম্মদ আলমগীর (৪৬) নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৭-এর এক ওয়ারেন্ট অফিসার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ট্রাকচালকও আহত হয়েছেন।
নিহত মোহাম্মদ আলমগীর সেনাবাহিনী থেকে প্রেষণে এসআরবি-৭-এর ফেনী ক্যাম্পে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি নেত্রকোণার কেন্দুয়া থানার মনাটিয়া গ্রামে। তাঁর বাবার নাম মৃত নুরুদ্দীন আহমেদ।
শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে ফতেহপুর স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনের প্রায় ১০০ গজ সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার সময় ফতেহপুর এলাকায় এসআরবি-৭-এর একটি দল অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি চালাচ্ছিল। এ সময় একটি কাভার্ডভ্যানকে থামার সংকেত দিলে সেটি সড়কের পাশে থামে। ঠিক তখনই পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাক সিগন্যাল অমান্য করে কাভার্ডভ্যানটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার পর ট্রাকচালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় সড়কের পাশে দায়িত্ব পালনরত ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ আলমগীরকে ট্রাকটি সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে ট্রাকটি মহাসড়কের পাশের খাদে পড়ে গেলে চালক মো. সজিবও আহত হন।
দুর্ঘটনার পর টহলরত এসআরবি সদস্য ও সহকর্মীরা আহত আলমগীর ও ট্রাকচালক সজিবকে উদ্ধার করে দ্রুত ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ আলমগীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহত ট্রাকচালক মো. সজিব বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নোমান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহত ওয়ারেন্ট অফিসারের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাঁর জানাজা এসআরবির চট্টগ্রাম হেড অফিসে অনুষ্ঠিত হবে।
মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া/ এফএস