কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য আনা পারমাণবিক জ্বালানি ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে প্রথম ইউনিটের রিফুয়েলিং কার্যক্রমের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ইউরেনিয়াম বহনকারী বিশেষ লরির বহর পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রবেশ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, দ্বিতীয় ইউনিটের প্রথম ইউরেনিয়ামের চালান কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে।
ইউরেনিয়াম পরিবহনের সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শনিবার সকালে তিনটি বিশেষ লরির একটি বহর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে রূপপুরের দিকে যাত্রা করে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ইউরেনিয়ামের এই চালানটি গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে ইউরেনিয়াম বহনকারী কার্গো উড়োজাহাজটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বাংলাদেশে আনা হয়। চলতি বছরের মে মাসে সেই জ্বালানি প্রথম ইউনিটের পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়। শিগগিরই ওই ইউনিটে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি দুই ইউনিটে বিভক্ত। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট; অর্থাৎ কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট।
২০১৩ সালে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি।
আরএন