গুয়াহাটির বারসাপারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেন রানের উৎসব বসেছিল। চার-ছক্কার ঝড়, একের পর এক সেঞ্চুরি আর রেকর্ডের পর রেকর্ড—সব মিলিয়ে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে হয়ে উঠল স্মরণীয় এক ম্যাচ। তবে এত রান করেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪০৫ রানের বিশাল লক্ষ্য ৮ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে ভারত।
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৪০৫ রান সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ক্যারিবীয় ব্যাটারদের তিনটি সেঞ্চুরিতে গড়ে ওঠে বিশাল এই সংগ্রহ। জন ক্যাম্পবেল ৬৮ বলে ১০১, শাই হোপ ৯৪ বলে ১০৪ এবং আমির জাঙ্গু ৭৭ বলে ১১৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। একই ইনিংসে তিন ব্যাটারের সেঞ্চুরি ওয়ানডে ক্রিকেটে বিরল এক রেকর্ডের জন্ম দেয়।
৪০৬ রানের বিশাল লক্ষ্য সামনে নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ভারত। রোহিত শর্মা ৭৫ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে রান তাড়ার ভিত গড়ে দেন। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন অধিনায়ক শুভমান গিল।
গিলের ব্যাটিংয়ের সামনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। মাত্র ১৩৩ বলে অপরাজিত ২২৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ভারতীয় অধিনায়ক। তাঁর ব্যাট থেকে আসে চার-ছক্কার বৃষ্টি। গিলের এই ডাবল সেঞ্চুরি ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
শেষ পর্যন্ত মাত্র ৪৩.৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪০৬ রান তুলে নেয় ভারত। অর্থাৎ ৩৯ বল হাতে রেখেই ৮ উইকেটের বিশাল জয় পায় স্বাগতিকরা। ৪০০-এর বেশি রান তাড়া করে পাওয়া এই জয় ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম বড় সফল রানচেজ হিসেবে জায়গা করে নেয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ম্যাচটি তাই হয়ে থাকল হতাশার এক রেকর্ড। ওয়ানডেতে প্রথমবার ৪০০-এর বেশি রান করেও জয়ের দেখা পেল না ক্যারিবীয়রা। অন্যদিকে গিলের রেকর্ড গড়া ডাবল সেঞ্চুরি, রোহিতের শতক এবং ৪০৬ রানের সফল রানচেজে ভারত পেল দারুণ এক জয়।।
এফএস