রাজধানীর উত্তরা থেকে আটক ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নাগরিক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি গোপনীয়তা আইনের একাধিক ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা এবং গুপ্তচরবৃত্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে রবিউলকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় অভিযান চালায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিম। সেখান থেকে রবিউল ইসলামকে আটক করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে একটি ভারতীয় পাসপোর্ট, একটি ভারতীয় ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং দুটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশের এজাহারে দাবি করা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদঘাটন হয়েছে, রবিউল পর্যটক বা ব্যবসায়িক কাজের আড়ালে বাংলাদেশে এসে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পাসপোর্ট, লাইসেন্স ও দুই মুঠোফোন জব্দ
মামলার সঙ্গে সংযুক্ত জব্দ তালিকায় রবিউলের ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও দুটি মুঠোফোনের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের নম্বরও জব্দ তালিকায় উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া, দুটি মুঠোফোনের শনাক্তকরণ নম্বরও নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে এসব মুঠোফোনে থাকা তথ্য, যোগাযোগ এবং অন্যান্য উপাত্ত যাচাই করা হবে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
এর আগে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। প্রথম দফায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে চারদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পরে রিমান্ড শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর আবার আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তাকে আরও চারদিনের রিমান্ড দেন।
পুলিশের আগের রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছিল, রবিউলের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে আসার উদ্দেশ্য নিয়েও তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি।
এছাড়া, বাংলাদেশে আগের যাতায়াত এবং সাম্প্রতিক কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা যাচাইয়ের কথাও জানিয়েছিল পুলিশ।
এবারের মামলায় পুলিশের দাবি, আগের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই, বিদেশি যোগাযোগের বিষয়টি অনুসন্ধান এবং জব্দ করা মুঠোফোনসহ অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের জন্য রবিউলকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
টিআই