ইতালির ডাগআউটে রবার্তো মানচিনির প্রত্যাবর্তনটা হলো দুঃস্বপ্নের মতো। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ঘরের মাঠে বেলজিয়ামের কাছে ২-০ গোলে হেরে নেশনস লিগের নতুন অধ্যায় শুরু করেছে আজ্জুরিরা। মিকা গোডটস ও দোদি লুকেবাকিওর গোলে জয় পেয়েছে বেলজিয়াম।
২০২৩ সালে ইতালির দায়িত্ব ছাড়ার পর আবারও জাতীয় দলের কোচ হিসেবে ফিরেছেন মানচিনি। তবে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়তে হলো তাকে। ফ্রান্স ও তুরস্কের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা ইতালির সামনে অপেক্ষা করছে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ।
এই ম্যাচে নিষেধাজ্ঞার কারণে ছিলেন না আলেসান্দ্রো বাস্তোনি। চোটের কারণে ফেদেরিকো দিমারকো, মার্কো পালেস্ত্রা, ব্রায়ান ক্রিস্তান্তে ও নিকোলো জানিওলোও ছিলেন বাইরে। আর্সেনালের হয়ে বাঁ প্রান্তে খেলা রিকার্দো কালাফিওরি ইতালির হয়েও একই পজিশনে খেলেছেন। সুইজারল্যান্ডের পরিবর্তে ইতালিকে বেছে নেওয়া আলেসান্দ্রো রোমানোরও অভিষেক হয়েছে এই ম্যাচে।
অন্যদিকে বনতুন কোচ মার্ক ফন বোমেলের অধীনে মাঠে নামে বেলজিয়াম। চোটের কারণে লিয়ান্দ্রো ত্রসার, জেরেমি ডোকু ও আন্দ্রে ওনানা ছিলেন না। গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াও ছিলেন না দলে। তবে শুরুর একাদশে ছিলেন কেভিন ডি ব্রুইনা, শার্ল দে কেতেলারে ও দিয়েগো মোরেইরা।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণে ওঠে বেলজিয়াম। সপ্তম মিনিটে দে কেতেলারের কোণাকুণি শট এক হাতে ঝাঁপিয়ে ঠেকান জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা।
কিছুক্ষণ পর নিকোলো বারেল্লার তৈরি করে দেওয়া বলে ফ্রাঞ্চেস্কো পিও এস্পোসিতোর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। যদিও পরে অফসাইডের পতাকা ওঠে।
ইতালিও সুযোগ তৈরি করেছিল। মোইজে কিনের দূরপাল্লার শট ঠেকাতে হয় বেলজিয়ান গোলরক্ষক সেন লামেন্সকে। তবে ম্যাচের ধারার বিপরীতে প্রথম গোলটি পেয়ে যায় বেলজিয়াম।
রিকার্দো রোমানোর ভুল পাস কেটে বল পান ডি ব্রুইনা। সেখান থেকে গোডটসের দিকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। ডি-বক্সে ঢুকে জিয়ানলুকা মানচিনিকে কাটিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান গোডটস। এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
গোল হজমের পর আরও চাপে পড়ে ইতালি। দিয়েগো কোপ্পোলার ভুল পাস থেকে পাওয়া সুযোগে দে কেতেলারে ও নিকোলাস রাসকিনের পরপর দুটি শট ঠেকান দোন্নারুম্মা। পরে গোডটসের হেডও দুর্দান্ত প্রতিক্রিয়ায় ফিরিয়ে দেন ইতালির গোলরক্ষক। তাঁর আরেকটি বাঁকানো শটও পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
বিরতির পর সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ইতালি। কামবিয়াগির ক্রসে ছয় গজ দূর থেকে কিনের ভলি কোনোভাবে ঠেকিয়ে দেন লামেন্স। এরপর পিও এস্পোসিতোর শটও রুখে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক।
তবে ইতালির চাপের মধ্যেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে বেলজিয়াম। নিজেদের অর্ধ থেকে বল নিয়ে দ্রুত এগিয়ে যান দোদি লুকেবাকিও। বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল পাঠান দূরের নিচের কোণায়। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বেলজিয়াম।
এরপর একাধিক পরিবর্তন এনেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইতালি। মোমো জোমা ও ইসা দৌম্বিয়ার অভিষেক হলেও ব্যবধান কমাতে পারেনি আজ্জুরিরা। দাভিদে ফ্রাত্তেসির শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। রিকার্দো কালাফিওরিও গোলের কাছাকাছি গিয়েছিলেন।
শেষ দিকে জর্জিও স্কালভিনির সামনে আসে ইতালির সবচেয়ে বড় সুযোগ। একেবারে কাছ থেকে নেওয়া তাঁর শট ক্রসবারের নিচের অংশে লেগে ফিরে আসে।
শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে ২-০ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ইতালিকে। ফলে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচেই হতাশ হতে হলো কোচ রবার্তো মানচিনিকে।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও উত্তেজনা ছিল। জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ও রোমেলু লুকাকুর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
-টিএস