যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। আগের সেশনে প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর বৃহস্পতিবারও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে জ্বালানি তেলের বাজার।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তেলের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
জিএমটি সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ৪৩ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৩.৫১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ফিউচারের দাম ৩৫ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৯২.৫১ ডলারে পৌঁছায়।
ফিলিপ নোভা-র মার্কেট ইনসাইটস বিভাগের প্রধান প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেন, তেলের বাজার এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরেনি।
তার মতে, ভূরাজনৈতিক ও সমুদ্রপথ-সংক্রান্ত ঝুঁকির প্রভাব ব্রেন্ট ক্রুডের ওপর তুলনামূলক বেশি। কারণ আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের বাজার মধ্যপ্রাচ্য ও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থা তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ায় ডব্লিউটিআই কিছুটা কম ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইরানের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান মোহসেন রেজাই বুধবার জানিয়েছেন, ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। তার এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। এতে তেলের দামে ঝুঁকি-প্রিমিয়াম আরও বাড়ছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধিদের যোগাযোগ হলেও সংঘাত অবসানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্টও কোনো ধরনের নতি স্বীকার না করার অঙ্গীকার করেছেন।
ফলে কূটনৈতিক সমাধান এখনো অনিশ্চিত থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। এরই ধারাবাহিকতায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।