আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের জেনারেল ডিবেট শুরু হয়েছে। উদ্বোধনী ভাষণে বক্তব্য রাখছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এরপর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের মধ্যে প্রথম বক্তব্য রাখবেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট। দ্বিতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বক্তব্য দেবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা আজ মঙ্গলবার জানিয়েছে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু হয়েছে গত ১৮ সেপ্টেম্বর। তবে জেনারেল ডিবেট শুরু হয়েছে আজ থেকে। যেখানে সব দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান বক্তব্য রাখেন এবং একে-অপরের কথা শোনেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বে যেসব ফল্ট লাইন আছে সেগুলো চওড়া হচ্ছে। এজন্য বিশ্ববাসীকে এক হবে।
তিনি আরও বলেন, সামরিক শক্তি একা বিশ্বে শান্তি আনতে পারবে না। এছাড়া অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত শক্তিও এককভাবে শান্তি আনতে পারবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জাতিসংঘের মহাসচিব ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্ববাসীর নজর গাজা থেকে সরতে দেওয়া যাবে না। তিনি মন্তব্য করেন, “৭ অক্টোবর হামাসের সন্ত্রাসী হামলার তিন বছর হয়েছে। কিন্তু এরপর গাজায় যে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে এমন ধ্বংসযজ্ঞ আমার জীবনে আমি কোথাও দেখিনি।” গাজায় জাতিসংঘের যে দায়িত্ব আছে সেটি পালন করার সুযোগ দিতেও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গুতেরেস তার বক্তব্যে ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কথাও বলেন। তিনি বলেন, এটি একটি নৃশংস যুদ্ধ। যেখানে ফ্রন্ট লাইনে বেসামরিক মানুষ হত্যার শিকার হয়ে আসছেন। এরমধ্যে ইউক্রেনীয়রা বেশি নিহত হলেও; সম্প্রতি রাশিয়াতেও বেসামরিকদের মৃত্যু হচ্ছে।
এছাড়া নারীর অধিকার, ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরে দখলদার ইসরায়েলের হামলার কথাও উল্লেখ করেন জাতিসংঘের মহাসচিব।
এর পাশাপাশি জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে আফ্রিকানদের জন্য স্থায়ী আসনের দাবিও জানান তিনি। গুতেরেস বলেন, “আজও নিরাপত্তা কাউন্সিলে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধি নেই। একুশ শতকে নিরাপত্তা কাউন্সিলে আফ্রিকানদের প্রতিনিধিত্ব না থাকা অবিচার এবং অগ্রহণযোগ্য। এটির পরিবর্তন হতে হবে।”
তিনি তার বক্তব্যের শেষে বলেন মানবাধিকার নিশ্চিত করা ছাড়া বিশ্বে কোনো শান্তি ও উন্নয়ন হবে না।
সূত্র: আলজাজিরা