জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়ে। বাংলাদেশে এ প্রভাব তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে ট্রাক ও পণ্য পরিবহনের ভাড়া বেড়ে গেলে বিভিন্ন পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। এ কারণে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ কমাতে খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি ও খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি বাড়ানো হবে।
তিনি জানান, ৪১ লাখ কার্ডধারী পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে দেওয়া হলে মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় তাদের সহায়তা করা সম্ভব হবে।
জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা
জ্বালানি খাতে ভর্তুকি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ভর্তুকি না দেওয়াই আইএমএফের একটি মৌলিক নীতি। তবে সরকার জ্বালানি তেলের দাম যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) প্রতি লিটার জ্বালানি তেলে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। এতে দৈনিক প্রায় ১০৯ কোটি টাকা এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বাড়ানোর ফলে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান কমানো সম্ভব হবে।
১৫০ কূপ খননের মহাপরিকল্পনা
দেশের গ্যাসের চাহিদা মেটাতে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করছে সরকার। দেশের গ্যাসের ওপর নির্ভর করা ছাড়া বাংলাদেশের সামনে কার্যকর বিকল্প নেই।
তিনি জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছয়টি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বন্ধ থাকা আটটি কূপ পুনরায় চালু করে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১০৬.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পাঁচটি প্রকল্পের কাজ চলমান।
আরও নয়টি নতুন কূপ খনন এবং ১২টি বিদ্যমান কূপে সংস্কারকাজের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে মহাপরিকল্পনার আওতায় ১৯টি কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা যাবে বলে জানান তিনি।
নিজের আগের কর্মজীবনের কথা উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি আগে থেকেই দেশে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
২০৩১ সালের মধ্যে বৈদ্যুতিক রেল
বৈদ্যুতিক রেল চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, প্রথম পর্যায়ে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রেলপথে কাজ শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পে ৩ হাজার ৮২২ কোটি টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক রেলে পরিচালন ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ কম হতে পারে। ফলে চালু হওয়ার পর এটি তুলনামূলক সাশ্রয়ী হবে।
দুই টেক্সটাইল মিল চালুর উদ্যোগ
বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, নীলফামারীর দারোয়ানি টেক্সটাইল মিলস ও মাগুরা টেক্সটাইল মিলস সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অক্টোবরে চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, অক্টোবরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে।
তিনি জানান, বর্তমানে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরিদ্র মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে সহায়তার আওতায় আনা হবে। প্রতিটি পরিবার একটি করে ফ্যামিলি কার্ড পাবে।
ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের সম্মানী
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের জন্য ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর আওতায় ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জনকে সম্মানী দেওয়া হবে। এরই মধ্যে ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে এ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এফএস