ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
অক্টোবরে ঘুরে আসুন দেশের এই ৫ স্বপ্নের গন্তব্যে
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

বর্ষার মেঘ ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে, প্রকৃতিতে ফিরছে নরম রোদ। পাহাড়ে সবুজের সমারোহ, নদী-ঝরনায় বর্ষার শেষ ছোঁয়া, আর সমুদ্রের ঢেউয়ে নতুন আমেজ। শরতের এই সময়ে কয়েক দিনের ছুটি পেলেই তাই ব্যাগ গুছিয়ে বেরিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।

 পাহাড়ের মেঘ থেকে শুরু করে সমুদ্রের নীল জল, চা-বাগানের সবুজ কিংবা ম্যানগ্রোভ বনের রহস্য। অক্টোবরে দেশের ভেতরেই মিলতে পারে বৈচিত্র্যময় ভ্রমণ অভিজ্ঞতা। ঘুরে আসতে পারেন এই পাঁচ গন্তব্যে।

 সাজেক

 পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারদিকে শুধু মেঘ আর সবুজ পাহাড়। সাজেকের এমন দৃশ্য ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বরাবরই আকর্ষণীয়। বর্ষার পর পাহাড় যখন আরও সবুজ হয়ে ওঠে, তখন সাজেকের সৌন্দর্যও যেন নতুন রূপ পায়।

 ভোরে মেঘের ভেলা, পাহাড়ের গায়ে সূর্যের আলো আর বিকেলে রঙ বদলানো আকাশ। সব মিলিয়ে সাজেক হতে পারে কয়েক দিনের ব্যস্ত জীবন থেকে দূরে থাকার দারুণ সুযোগ। কংলাক পাহাড়, স্থানীয় পাহাড়ি গ্রাম ও আশপাশের প্রকৃতিও ঘুরে দেখা যায়।

 তবে পাহাড়ি এলাকায় অক্টোবরেও বৃষ্টি হতে পারে। তাই যাত্রার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সড়কের পরিস্থিতি জেনে নেওয়া ভালো।

কক্সবাজার
 শহরের কোলাহল ছেড়ে ঢেউয়ের শব্দ শুনতে চাইলে কক্সবাজারের বিকল্প কম। দীর্ঘ বালুকাবেলা, নীল সমুদ্র আর বিকেলের সূর্যাস্তসব মিলিয়ে অক্টোবরেও কক্সবাজার হতে পারে আকর্ষণীয় গন্তব্য।

 শুধু সৈকতে বসে সময় কাটানো নয়, চাইলে মেরিন ড্রাইভ ধরে যেতে পারেন হিমছড়ি ও ইনানীর দিকে। পাহাড় আর সমুদ্রের মিলিত দৃশ্য ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

 তবে অক্টোবরেও বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়া দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। সমুদ্র উত্তাল থাকলে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।

 শ্রীমঙ্গল-সিলেট
 চা-বাগানের আঁকাবাঁকা পথ, পাহাড়ি ঝরনা, নদী আর সবুজের বিস্তার। শ্রীমঙ্গল ও সিলেট যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য আলাদা এক জগৎ।

 শ্রীমঙ্গলের চা-বাগানে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি যেতে পারেন লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানেও। সিলেটের জাফলং, বিছানাকান্দি কিংবা রাতারগুল জলাবনও ভ্রমণ তালিকায় রাখা যায়।

 বর্ষার পর এসব এলাকার প্রকৃতি তখনও সতেজ থাকে। কোথাও পাহাড়ের গায়ে মেঘ, কোথাও স্বচ্ছ পানির ধারা। ক্যামেরা হাতে প্রকৃতির ছবি তুলতেও সময়টা বেশ উপভোগ্য।

সুন্দরবন
 শহুরে ভ্রমণের বাইরে একটু রোমাঞ্চ চাইলে সুন্দরবন হতে পারে অন্যরকম অভিজ্ঞতা। নৌকায় করে নদী পেরিয়ে ম্যানগ্রোভ বনের ভেতরে প্রবেশ। ভ্রমণের শুরু থেকেই তৈরি হয় এক ধরনের রোমাঞ্চ।

 বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে দেখা মিলতে পারে চিত্রা হরিণ, কুমির ও নানা প্রজাতির পাখির। ভাগ্য ভালো হলে চোখে পড়তে পারে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের উপস্থিতির চিহ্নও।

 বনের নীরবতা, নদীর জোয়ার-ভাটা আর ঘন সবুজের মধ্যে নৌভ্রমণ সুন্দরবনকে অন্য সব গন্তব্য থেকে আলাদা করে। তবে বনে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনুমতি, নিরাপত্তা নির্দেশনা ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।

কুয়াকাটা
 একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে কুয়াকাটা হতে পারে আপনার গন্তব্য। পটুয়াখালীর এই সমুদ্রসৈকতকে তাই বলা হয় ‘সাগরকন্যা’।

 সকালে সমুদ্রের বুক থেকে সূর্যের উদয় আর বিকেলে দিগন্তে সূর্যের হারিয়ে যাওয়া। দুটি দৃশ্যই কুয়াকাটার বিশেষ আকর্ষণ। এর সঙ্গে রয়েছে দীর্ঘ সৈকত, ঝাউবন ও উপকূলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য।

 সৈকতের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের জীবনযাপন কিংবা শুঁটকি তৈরির প্রক্রিয়াও কাছ থেকে দেখা যায়। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে কয়েক দিনের নিরিবিলি ভ্রমণের জন্য কুয়াকাটা হতে পারে উপভোগ্য একটি গন্তব্য।


 পাহাড়ের মেঘ চাইলে সাজেক, ঢেউয়ের সঙ্গে সময় কাটাতে চাইলে কক্সবাজার, সবুজের প্রশান্তি চাইলে শ্রীমঙ্গল-সিলেট, রোমাঞ্চকর নৌভ্রমণ চাইলে সুন্দরবন, আর সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দুটোই দেখতে চাইলে কুয়াকাটা অক্টোবরে দেশের ভেতরেই রয়েছে ভ্রমণের নানা আয়োজন।

 তবে পাহাড়, সমুদ্র ও সুন্দরবন। তিন ধরনের গন্তব্যেই আবহাওয়া দ্রুত বদলাতে পারে। তাই রওনা হওয়ার আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেখে নেওয়াই নিরাপদ।

  এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement