চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে প্রশিক্ষণ চলাকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নোয়াখালীর সন্তান সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক এ দুর্ঘটনায় তার সঙ্গে আরও এক সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক সেনা কর্মকর্তা।
মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগেই বাবা হয়েছিলেন পিয়াস। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার অকালপ্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কবিরহাটের সুন্দলপুর ইউনিয়নসহ পুরো এলাকায়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বুধবার হাটহাজারী সেনানিবাসে নিয়মিত ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই সেনাসদস্য নিহত হন। আহত সেনা কর্মকর্তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়েছে।
নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের একমাত্র ছেলে। তিন বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, পিয়াস ছোটবেলা থেকেই শান্ত স্বভাবের ও মিশুক ছিলেন। চাকরির কারণে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের কোয়ার্টারেই থাকতেন। কয়েকদিন আগেই তার ঘর আলো করে আসে ফুটফুটে এক নবজাতক। সন্তানকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে বাবার আদর পাওয়ার আগেই এতিম হয়ে গেল সেই শিশু।
পিয়াসের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভেঙে পড়েন। তাকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন এলাকার মানুষ। প্রতিবেশীরা বলেন, “পিয়াস খুব ভালো ছেলে ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলত। এমন অকাল মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না।”
কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, “দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণ সৈনিকের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।”
এদিকে, ঘটনা তদন্তে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
এমআর/আরএন