রাজশাহীর বাঘায় বন্যার পানিতে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৭৬টি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে তারা পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করছেন। গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুর নিচপলাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছগ্রামে এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সাংবাদিক এসেছেন—এমন খবর শুনে তাৎক্ষণিকভাবে ২৪ নম্বর ঘরে বসবাসকারী ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ এগিয়ে আসেন। এরপর ২৫ নম্বর ঘরের শাহিদা বেগম, ১৫ নম্বর ঘরের সান্টু আলী, ৩৩ নম্বর ঘরের মালেকা বেগম, ৩০ নম্বর ঘরের রাশিদা বেগম ও ৪১ নম্বর ঘরের পাতা বেগম এগিয়ে এসে বলেন, ‘বাবারে, আমরা এখানকার সবাই এক সপ্তাহ ধরে পানির মধ্যে বসবাস করছি। কেউ কোনো সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেনি। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বসবাস করছি।’
একটু এগিয়ে যেতেই ৭০ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগমকে বারান্দায় চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ইয়াছিন আলী ছয় মাস আগে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমার দুই মেয়ে ও চার ছেলে রয়েছে। সবাইকে বিয়ে দিয়েছি। ছেলেরা আছে, তারা দেখাশোনা করে। কিন্তু সরকারি কোনো সাহায্য-সহযোগিতা পাইনি।’
মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে পাশে একটি সাপ দেখতে পেয়ে ভয়ে সবাই আতঙ্কিত হয়ে যায়। সাপ, পোকামাকড়ের ভয়ে রাতে ঘুম হয় না।’
এদিকে ৩৪ নম্বর ঘরের মালিক জমসেদ আলী, ৩৩ নম্বর বাড়ির মালিক আবদুল মজিদ, ৩৯ নম্বর বাড়ির মালিক সিমা বেগম, ৪৫ নম্বর বাড়ির মালিক রুবিনা বেগম, ৪৪ নম্বর বাড়ির মালিক রুমা খাতুন, ৪৮ নম্বর বাড়ির মালিক রেহেনা খাতুন, ৪৩ নম্বর বাড়ির মালিক আশা খাতুন এবং ৪০ নম্বর বাড়ির মালিক চম্পা খাতুন এগিয়ে এসে বলেন, ‘ঘরে চাল আছে, কিন্তু রান্না করার জায়গা পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে খাওয়া-দাওয়া প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হলে আমাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব হতো।’
জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে খানপুর নিচপলাশি আশ্রয়ণ প্রকল্পে প্রতিটি ঘরের জন্য দুই লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করে দেয় সরকার। সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে দলিল তুলে দেয়। থাকার কোনো জায়গা না থাকায় তারা এসব ঘরে বসবাস করছেন।
স্থানীয়রা জানান, গত ১৬-১৭ বছরের মধ্যে এখানে কখনো পানি ওঠেনি। এবার হঠাৎ করে পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে উঠান দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে তারা চরম কষ্টে রয়েছেন। এখানে যারা বসবাস করেন, তারা সবাই দরিদ্র মানুষ। অনেক সময় তারা এলাকার বাইরে কাজ করে এবং অন্যের সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে সংসার চালান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, ‘আশ্রয়ণ প্রকল্পে যারা বসবাস করেন, তারা খুব দরিদ্র মানুষ। তারা দিন আনে দিন খায়। তারা সকালে কাজে বের হন এবং সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। সারাদিন তারা বাইরে থাকেন। এলাকার কিছু মানুষ আমাকেও বলেছেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের গুচ্ছগ্রামে বন্যার পানি উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘বানভাসিদের সহযোগিতা শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নে নদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১০০ পরিবারের মাঝে ১৫ কেজি করে মোট ১.৫ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। গুচ্ছগ্রামের সদস্যদেরও অচিরেই সহযোগিতা করা হবে।’
এএইচ/আরএন